অবশেষে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি নিয়ে মুখ খুলল রাশিয়া

তালেবানের সঙ্গে শুরু থেকে যোগাযোগ রাখলেও এখনই স্বীকৃতি দিচ্ছে না রাশিয়া। তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচনার টেবিলে নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশন চলাকালে সাইডলাইনে তালেবান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি এখনও আমাদের বিবেচনায় নেই। এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানে শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থে তালেবানের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করার বিষয়ে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।

রাশিয়ার মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্পুটনিক নিউজ জানিয়েছে, তালেবান সরকারও চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধভাবে তালেবান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি এই দেশগুলোর তিনজন বিশেষ দূত কাবুল সফর করেন।

সেখানে তারা তালেবানের প্রতিনিধি ছাড়াও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও শান্তি প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন। কাবুলে তিন পরাশক্তির বিশেষ দূতদের বৈঠকের পরপরই তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে চিঠি দিয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগ্রহ জানানো হয়।

তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে লেখেন, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এ সম্মেলনে অংশ নিতে চায় তালেবান। বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী চীন ও পাকিস্তান।

এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে নিয়ে নতুন একটি গ্রুপ তৈরি করতে চাইছে দেশ দুটি। সম্ভাব্য এই গ্রুপে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরান, তাজিকিস্তান, তুর্কেমিনিস্তান ও উজবেকিস্তান রয়েছে। এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ৭ সেপ্টেম্বর একটি ভার্চ্যুয়াল সভা করেছিলেন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.