আইপিএলের যে ৩টি রেকর্ড কখনোই কেউ ভাঙতে পারবে না!

ক্রিকেট জগতে বছরের পর বছর ধরে আমরা রেকর্ড গড়তে এবং ভাঙতে দেখেছি। ২০০৮ সালে আইপিএল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্তসব পারফর্মেন্সের অভাব কখনো দেখা যায়নি। আমরা ক্রিস গেইল এবং এবি ডেভিলিয়র্সের মতো ব্যাটসম্যানদের দেখেছি নির্দয়ভাবে বোলারদের মাঠের বাইরে পাঠাতে এবং ডেল স্টেইন আর ব্রেট লির মতো বোলারদেরও দেখেছি ব্যাটসম্যানের ইয়র্কার এবং গতিতে শিড়দাঁড়ায় কাঁপন ধরিয়ে দিতে।

আইপিএলে অসাধারণ কিছু রেকর্ড দিয়েছে যেমন বিরাট কোহলির এক মরশুমে পাঁচটি সেঞ্চুরি, ২০১৩য় আরসিবির আইপিএলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান করা আরো অনেক কিছু। কিন্তু রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য এবং নিশ্চিতভাবেই শীঘ্রই এই রেকর্ড গুলি ভেঙে যেতে পারে।

কিন্তু আইপিএলে এমকিছু অসাধারণ রেকর্ড রয়েছে যা হয়ত কখনো ভাঙা যাবে না। নতুন মরশুম শুরু হওয়ার আগে আজ আমরা এই বিশেষ প্রতিবেদনে এমন ৩টি রেকর্ডের ব্যাপারে জানাব যা কখনো ভাঙা সম্ভব নয়।

১। ক্রিস গেইলের ১৭৫* রান: ক্রিস গেইল এমন একটা নাম যার আলাদা করে কোনো পরিচিত দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তার বিশাল বিশাল ছক্কা দর্শকদের আকর্ষিত করে স্টেডিয়ামে টেনে আনে। কিছু বছরের মধ্যেই তিনি যে কোনো দলের জন্যই মূল্যবাদ সম্পদ হয়ে ওঠেন।

২০১৩র ২৩ এপ্রিল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম সাক্ষী থাকে এক অভাবনীয় ঘটনার, ওই দিন ইউনিভার্সাল বস নামে পরিচিত ক্রিস গেইল ছিলেন ধ্বংসাত্মক মেজাজে। বিপক্ষ দলের বোলারদের মধ্যে মিচেল মার্শই হোন বা ভুবনেশ্বর কুমার, গেইল কোনো বোলারকেই সেদিন ক্ষমা করেননি। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বোলারদের উড়িয়ে দিয়ে ছক্কা বৃষ্টি করে গেইল সেদিন মাত্র ৬৬ বলে অপরাজিত ১৭৫ রানের অবিশ্বাসনীয় ইনিংস খেলেন।

এটি টি-২০ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। গেইলের এই ইনিংসটিতে ১৭টি ছক্কা এবং ১৩টি বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো ছিল। গেইলের এই ম্যারাথন ইনিংসের পর আইপিএলের আর কোনো ব্যাটসম্যানই সফলভাবে ১৫০ রানের বেশি কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। এবং কোনো ব্যাটসম্যানেরই গেইলের মতো এভাবে বিধ্বংসী স্ট্রাইকরেটে রান করার সক্ষমতা না থাকায় এই মরশুমেও এই রেকর্ড অক্ষুন্ন থেকে যাবে।

২। প্রয়াস রায় বর্মণের সবচেয়ে কম ১৬ বছর ১৫৭ দিনে আইপিএল অভিষেক: এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন লীগ, যেখানে বিপুল পরিমান চাপ এবং অর্থ জড়িয়ে রয়েছে। বহু প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ই আইপিএলে ব্যর্থ হয়েছে এবং বেশকিছু প্লেয়ার এই টুর্নামেন্টে কোনো দলে জায়গা করে নিতেও ব্যর্থ হয়েছেন।

তা সত্ত্বেও এই টুর্নামেন্টে এমন অনেক তরুণ তারকারা রয়েছেন সরফরাজ খান এবং মুজিব উর রহমানের মতো যারা আইপিএলে খেলার সুযোগ করে নিয়েছেন। এবং তাদের মধ্যেই একজন হলেন প্রয়াস রায় বর্মণ। ২০১৯ এর আইপিএল নিলামে যখন ১.৫ কোটি টাকায় প্রয়াস বিক্রি হন তখন অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন।

স্বপ্নাতীতভাবেই তাকে ২০১৯এর ৩১ মার্চ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে বিরাট কোহলি প্রথম একাদশে সুযোগ দেন। এবং তিনি আইপিএল খেলা সবচেয়ে তরুণ প্লেয়ার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। তিনি কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করা মুজিব উর রহমানের ১৭ বছর ১১দিনের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে মাত্র ১৬ বছর ১৫৭ দিনে আইপিএলে অভিষেক ঘটান।

আইপিএল ২০২০র নিলামে সবচেয়ে তরুণ প্লেয়ার হিসেবে যিনি বিক্রিত হয়েছেন তিনি হলে যশস্বী জয়সওয়াল, যার বয়স এখন ১৭ বছর। ফল স্বরূপ প্রয়াস এখনো আইপিএলে খেলা সবচেয়ে তরুণ প্লেয়ারের রেকর্ডটি নিজের দখলেই রেখেছেন।

৩। ধোনি অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ জেতার পারসেন্টেজ (৬০.১১): ক্রিকেট ইতিহাসে মহেন্দ্র সিং ধোনি তর্কাতীত ভাবেই অন্যতম সেরা একজন অধিনায়ক। আইপিএলের ৯টি মরশুমে সিএসকেকে ৩টি খেতাব জিতিয়ে তিনি নিজেকে সেরা অধিনায়ক হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন।

তার নেতৃত্বে সম্ভবতই সিএসকের কখনো কোনো মরশুম খারাপ গিয়েছে। তার নেতৃত্ব এবং গাইডেন্সেই সিএসকে অসাধারণ প্রদর্শন করেছে এবং রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং মুরলী বিজয়ের মতো সর্বোচ্চ স্তরের প্লেয়ারদের জাতীয় দলকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।

আইপিএলের এই সমস্ত মরশুমে চেন্নাই বহুবারই ফাইনালে পৌঁছেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির অসাধারণ ৬০.১১ শতাংশ জয়ের ধারা বজায় রাখায়। তার কাছাকাছি রয়েছেন রোহিত শর্মা, যার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে উইন পারসেন্টেজ হলো ৫৮.৬৫%। ধোনির কাছে যে ধরণের দল রয়েছে, তাতে রোহিত শর্মার পক্ষে ধোনির জয়ের শতাংশকে পেছনে ফেলার সম্ভাবনা ভীষণই কম। এটাই কারণ যে ধোনি আইপিএলের আরো একটি মরশুমে সম্ভবত সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হতে পারেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*