আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণা

শুধু রাজধানীতে হাফ পাশ ভাড়া কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়া তা প্রথ্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে তারা। ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে নতুন এ ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কক্ষে বৈঠক শেষ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল বেরিয়ে আসে। তারা জানায়, সেখানে গণপরিবহনে হাফ ভাড়াসহ ৯ দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা করলেও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি পায়নি শিক্ষার্থীরা।

ইনজামুল হক সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা আশানুরূপ ছিল না, আমাদের দাবি মানা হয়নি। দাবি পূরণের বিষয়ে আশ্বাসও দেওয়া হয়নি। এ কারণে আগামীকাল (বুধবার) সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি: ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘ছাত্ররা মরবে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সেই দাবিগুলো হলো-

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সব সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২. ঢাকাসহ সারা দেশে সব গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেলপথ ও মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। ৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। ৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে। ৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএ’র সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে। ৯. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিষয়টিকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.