আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান বিএনপির

আগামী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা। রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই আহবান জানান বিএনপি নেতারা। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মহানগর নাট্যমঞ্চে আলোচনা সভা করার অনুমতি পুলিশের কাছ থেকে দুইদিন আগেই পেয়েছিল বিএনপি।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) সাদেক হোসেন খোকার জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। মানুষের যে আকুতি, এই যে আবেদন, সেটা হল স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার। সাদেক হোসেন খোকা দেশে রক্ষার জন্য লড়াই করে যুদ্ধ করেছেন। এইভাবে অসংখ্য নেতাকর্মী আছেন যারা নিহত হয়েছেন, গুম হয়ে গেছেন। এর একটাই কারণ যে, আমরা একটা স্বাধীন দেশ চাই। দেশে গণতন্ত্র চাই। আমারা একটা মুক্ত পৃথিবী চাই।

তিনি বলেন, যারা জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছেন তারা বলেন, ৭ই নভেম্বর আমরা মানি না। আমি বলি, আপনারা এটা মানবেন কেন। আপনারাতো এই দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন না। আজকে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিশ্বস করে, যারা বাংলাদেশকে এটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে আছে এমন একটা দেশ দেখতে চায়, তারাই ৭ই নভেম্বরকে মানে এবং পালন করে।

সরকার বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, এই সরকার দেশটাকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তারা মানুষকে সুশাসন থেকে বঞ্চিত করছে। তারা নিজেদের দুর্নীতি ঢাকার জন্য এখন চুনোপুঁটিগুলোকে ধরছে। একটা কথা পরিস্কার করে বলতে চাই। এই চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে আপনি মূল দুর্নীতি আড়াল করতে পারবেন না। হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন তার হিসাব কোথায়? এগুলোর হিসাব থাকবে না। কারণ যারা এই টাকা লুট করেছে, এরা আপনার কেউ মন্ত্রী, কেউ উপদেষ্টা, কেউ আপনার আপনজন।

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য জনগণকে রাস্তায় নামার আহবান জানিয়ে ফখরুল বলেন, এই দেশকে মুক্ত করতে হলে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে, আমাদের রাস্তার নামার কোন বিকল্প নাই। কোন ফ্যাসিস্ট সরকারে হাত থেকে মুক্তি এককভাবে করা যায় না। তাই আমরা দেশপ্রেমী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো একত্র করে আমরা এই এক নায়ক ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশে যে বাকশাল সৃষ্টি করা হয়েছিল তার থেকে এই দেশকে রক্ষা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ঠিক এখন আবারো একটি বাকশাল তৈরী করেছে আওয়ামীলীগ। দেশে আজ দুর্নীতির রোল মডেল হয়েছে, অত্যাচার অনাচারের রোল মডেল হয়েছে। এ দেশের সমাজের সর্বস্তরের জায়গায় পচন ধরেছে। এই অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। তাই আমাদের আন্দোলনে নামার জন্য সবাইকে প্রস্তুত হতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, শহীদ জিয়া যে স্বাধীনতার ঘোসণা নিয়ে এই সরকারের লোকেরা নতুন করে আওয়াজ শুরু করেছে। কারণ ১৯৮০ সালে আমার যে বই বেরিয়েছিল সেটার প্রতিবাদ তারা করেন নাই। সেখানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে কিভাবে, কখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সুতরাং এটা অনষীকার্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়, আহমদ আজম খান, শমসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সেক্রেটারি হাবিবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*