আবারো নিজেদের শক্তি দেখাল বিএনপি

বহুদিন পর কিশোরগঞ্জে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি দেখাল বিএনপি। বড় ধরণের কোনো প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পায়নি তারা। তার পরও কেবল ব্যক্তিগত কিংবা সাংগঠনিক যোগাযোগের মাধ্যমেই লাখো নেতাকর্মী নিয়ে গণ-সমাবেশ করল দলটি। দলীয় চেয়ারপারসনের বিদেশে চিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সমাবেশ হলেও এটি ছিল তাঁদের সাংগঠনিক শক্তির মহড়াও।জেলা শহরের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি পায় দলটি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও

সকাল থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্পট ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে। নির্দেশনা পেয়ে বেলা ১২টার পর থেকে মিছিল নিয়ে সভাস্থলে যেতে থাকে নেতাকর্মীরা। পুলিশের সতর্ক পাহারা থাকলেও মিছিলে কোনো বাধা দেয়নি পুলিশ। ২টার আগে সভাস্থলে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেয়। সমাবেশে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন ধরণের স্লোগান

দিতে শোনা যায়।গণ-সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুস সালাম, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন

টুকু। গণ-সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এই সরকারের কাছে আর কোনো আবেদন নিবেদন নয়। একমাত্র আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।বর্তমান সরকারকে ‘নিশি রাতের’ সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসা এই সরকার যে কোনো অন্যায় কাজ করে ফেলতে পারে। আপনারা জানেন জেনারেল আজিজের ভাই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জোসেফ ও হারিসকে

৪০১ ধারার ক্ষমতাবলে এই সরকার রাতের অন্ধকারে মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিলেও মহান স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে সুচিকিৎসার জন্য যেতে দেওয়া হচ্ছে না। শুধু মাত্র হত্যা করার উদ্দেশ্যে। আমরা সব বুঝে গেছি। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। তাই আর কোনো দাবি নয়, আবেদন নিবেদন নয়, আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারে পতন ঘটিয়ে, নতুন সুর্য, নতুন সকাল দেখবো

ইনশাআল্লাহ।এ ছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে বক্তৃতা করেন কিশোরগঞ্জ-২ কটিয়াদী আসনের বিএনপির সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান রঞ্জন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদব হাজী ইসরাইল মিয়া প্রমুখ। গণসমাবেশ পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.