আবারো ভারত-চীন টানাপোড়েন

আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হতে পারে শান্তি রয়েছে লাদাখে। কিন্তু শান্তির আড়ালেই চীন-ভারতের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র উত্তেজনা, যা খুবতাড়াতাড়ি প্রশমিত হবে না বলেই ধরে নিচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্তারা। ফলে আসছে শীতেও সীমান্তে চূড়ান্ত সতর্কতা বজায় রাখতে হবে- এমনটা ধরেই এগোচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

মস্কোয় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ওয়াং ই-এর মধ্যে বৈঠকের পর থেকেই টানা চার দিন প্যাংগং লেকের উত্তর দিকে ফিঙ্গার থ্রি এবং ফিঙ্গার ফোরের মধ্যবর্তী এলাকায় দু’ দেশেরই প্রায় দেড় থেকে দু’ হাজার সেনা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। শনিবার রাতেও যা বদলায়নি।

নিরাপত্তা বাহিনীর এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, ‘আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে৷ দুই বাহিনীর লোকালকম্যান্ডার মধ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যাতে উত্তেজনা আর না বাড়ে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মস্কোয় বৈঠকের পর থেকে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে ব্রিগেডিয়ার স্তরের বৈঠক হলেও সমাধান সূত্র বের হয়নি। অভিযোগ চীনের পক্ষ থেকে আলোচনায় সেনা পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা না বলে কোন জায়গায় দুই দেশের কত সেনা রয়েছে, তার উপরই জোর দেওয়ার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় যাতে সেনা জওয়ানদের অসুবিধা না হয়, সেজন্য বিশেষ ধরনের তাঁবু-সহ সাজসরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে লাদাখে। নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে লাদাখে তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রিসেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। যে বিশেষ ধরনের তাঁবু পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে একসঙ্গে ৮ থেকে১০ জন সেনা থাকতে পারবেন।

এই তাঁবুগু’লির মধ্যে বুখারি নামে একটি বিশেষ যন্ত্র থাকবে, যাতেসেনাদের তাঁবুর ভিতরে পর্যাপ্ত গরম থাকে। এর পাশাপাশি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা থেকে বাহিনীর সদস্যদের রক্ষা করতে বিশেষ ধরনের জুতা এবং পোশাক কিনেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এই ধরনের পোশাক এবং সরঞ্জামই সিয়াচেনে মোতায়েন করা সেনাদের জন্য ব্যবহার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *