আরো যেসব চাপ দিতে পারে ভারত

পেয়াজ’ কূটনীতির মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করেছে, তাদের মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়। নিজেদের স্বার্থের জন্য ভারত সংকীর্ণতার চুড়ান্তে যেতে এতোটুক সংকোচ বোধ করে না। তাই বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে ‘পেয়াজ’ ভারতের একমাত্র অস্ত্র নয়। চাপে ফেলে বাংলাদেশকে বসে আনতে ভারতের আরো আরো অস্ত্র আছে। পেয়াজে কাজ না হলে, সেসব ‘অস্ত্র’ প্রয়োগ করতে এতোটুক দ্বিধা করবে না বলেই মনে করেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।

গত কয়েকমাস ধরেই কূটনীতিক পাড়ায় গুঞ্জন এবং আলাপচারিতা ছিলো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সংগে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ব্যাপ্তি বৃদ্ধি ভারতকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কূটনীতিক মহলে এ রকমও গুঞ্জন আছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে নিয়ে ‘সন্তুষ্ট’ নয় ভারত।

আর এসব গুঞ্জনের মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ষন শ্রিংলা আকস্মিক সফরে ঢাকা আসেন। যদিও ঢাকা এবং দিল্লী দুই দেশের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছিল, এটি রুটিন সফর। কিন্তু করোনা সংকটের মধ্যে শ্রিংলার ঢাকা অবতরন যে রুটিন সফর ছিলো না, তা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নেই।

আর এই সফর যে শেষ পর্যন্ত ভারতের সন্তুষ্টির কারণ হতে পারেনি, তা বোঝা গেল ১৪ সেপ্টেম্বর। ঐ দিন আকস্মিক ভাবেই বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো ভারত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দুই দেশের টানা পোড়েনের প্রথম বহিঃপ্রকাশ। ভারতীয় গণমাধ্যম এবং বিজেপি নিয়ন্ত্রিত থিংক ট্যাংক বলছে, বাংলাদেশের জন্য সামনে আরো দু:সংবাদ অপেক্ষা করছে। এরমধ্যে রয়েছেঃ-

১। নাগরিক পঞ্জীতে বহিরাগতদের পুশ ইন মোদী সরকার দ্বিতীয় মেয়াদ ক্ষমতায় এসেই নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করেছে। শুরু করেছে নতুন করে নাগরিক পঞ্জী। এই নাগরিক পঞ্জী কার্যক্রমে ইতিমধ্যে আসামে লাখ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। এরপর পশ্চিম বঙ্গ এবং পর্যাক্রমে সারাদেশে নাগরিক পঞ্জী আইন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা।

বিজেপির অনেক নেতাই তাদের ‘গলাধাক্কা’ দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বলেছেন। যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অন্তত দুবার বলেছেন নাগরিক পঞ্জী নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হবার কিছু নেই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি ভারতের অভ্যন্তরীন ব্যাপার।

কিন্তু করোনা সংকটের কারণে থেমে থাকা নাগরিকত্ব বিতর্ক আবার নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে বলেই ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাবেন। এদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা হলেও তাতে অবাক হবার কিছু থাকবে না।

২। শুকনো মৌসুমে পানি প্রবাহে বাধা ফারাক্কা এবং তিস্তায় বাঁধ দিয়ে ভারতে এমনিতেই বাংলাদেশে শুকনো মৌসুমে পানি সংকট তৈরী করে। গঙ্গার পানি চুক্তি অনুযায়ী, ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ অনেক সময় পায় না। ৬ বছর ধরে ঝুলে আছে তিস্তার পানি চুক্তি। এবার শুকনো মৌসুমে পানি দিয়েও চাপ সৃষ্টি করতে পারে ভারত। এমন আশংকা এখন কূটনীতিক মহলে বেশ জোরে সোরেই করা হচ্ছে।

৩। ভারতীয় প্রকল্পে ধীরগতি ভারতীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতায় বাংলাদেশ এখন অনেকগুলো প্রকল্প চলছে। চাপ দেয়ার কৌশল হিসেবে এই প্রকল্প গুলো গতি শ্লথ করে দিতে পারে ভারত।

৪। মিয়ানমারের সংগে সখ্যতা বৃদ্ধি যদিও প্রকাশে ভারত রোহিঙ্গাদের বাস্তুহ্যের করার নিন্দা করছে। বানিজ্যের লোভে মিয়ানমারের সংগে গভীর সখ্যতা ঠিকই বজায় রেখেছে ভারত। এখন বাংলাদেশকে চাপে রাখতে মিয়ানমারের সংগে সখ্যতা বাড়াতে পারে ভারত। এসবই আশংকার কথা। কূটনীতিকরা এটাও মনে করছেন, এসব ইস্যুতে চাপ দিয়ে সাময়িক ভাবে বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে ফেলা যাবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এসব চাপ বুমেরাং হতে পারে ভারতের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *