আলেমদের নতুন করে ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা চলছে!

জুনাইদ বাবুনগরী ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ আহ্বায়ক কমিটি করে আলেম-ওলামাদের ‘নতুন করে ষড়যন্ত্রের ফাঁদে’ ফেলতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেছেন আল্লামা শফীর অনুসারীরা।বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা। আলেমদের ‘সরলতার সুযোগে’ একটি মহল তাদের ভুলপথে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা’ করছে বলেও মন্তব্য তাদের।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আহমদ শফীর চরম বিরোধী ও বিদ্বেষীদের দ্বারা যিনি হেফাজতের কথিত আমির হয়েছিলেন, তাকে এদেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে তিনি জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য তথাকথিত ওই অবৈধ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।

আমরা মনে করি, কথিত হেফাজত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একটি পকেট কমিটি গঠিত হয়েছিল। যেখানে আহমদ শফির মূল অনুসারী হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

নুরুল ইসলাম জাদিদ বলেন, গঠনতন্ত্রে না থাকলেও এককভাবে তিনি (বাবুনগরী) নিয়ম বহির্ভূত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে নতুনভাবে আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে নিপতিত করার পাঁয়তারা করছেন। এটি হেফাজতের কোনো আহ্বায়ক কমিটি নয় বরং মামা-ভাগ্নের ফটিকছড়ি পকেট কমিটি।

এতে আরও বলা হয়, আরও জঘন্যতম বিষয় হলো- হেফাজতের তথাকথিত বর্তমান আহ্বায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী গত ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদেরকে সামনে বসিয়ে রেখে বলেছেন, হুজুরের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে বলেন, মাদরাসায় কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মিথ্যাচারপূর্ণ ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করেছেন। এই বক্তব্য বড়ই বেদনাদায়ক। তার এমন বক্তব্য প্রকৃতপক্ষে তার ক্যাডারদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আড়াল করার অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- ১. আল্লামা শাহ আমদ শফীর ‘অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুর’ ঘটনায় দাখিলকৃত মামলা ও পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

২. আল্লামা শফীর পরিবারের সদস্যদের ও তার অনুসারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা মামলা তুলে নেয়ার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. আহমদ শফীর রেখে যাওয়া সব দ্বীনি ও সামাজিক অঙ্গনগুলো থেকে তার বিরোধীদের অপসারণ করতে হবে। ৪. অবিলম্বে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর মক্তব ও হিফজ বিভাগ খুলে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে কিতাব বিভাগও খুলে দিতে হবে।

৫. শান্তি-শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় গ্রেফতারকৃত নিরীহ, নিরপরাধ আলেমদের মুক্তি দিয়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সারাদেশে নিরপরাধ আলেমদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আল্লামা আহমদ শফীর শ্যালক মাঈনুদ্দিন, ছোট ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুরী পীর), মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহি, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা রুহুল আমিন খান উজানি, মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন সাইফী প্রমুখ।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.