ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উন্মুক্ত করতে পারে আওয়ামী লীগ

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে চায়। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে। ডিসেম্বরের পর এই নির্বাচন কমিশন নতুন কোনো নির্বাচনের আয়োজন করতে পারবে না। সেজন্য নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আর এই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড এবং সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথ সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে আসছে। আর এরকম বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এসব নির্বাচনগুলো উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। যেহেতু এসব নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না, কাজেই এই নির্বাচনগুলোতে দলীয়ভাবে প্রার্থী দিলে স্থানীয় তৃণমূলের নির্বাচনগুলো উৎসাহহীন এবং আগ্রহহীন হয়ে পড়তে পারে।

এরকম বিবেচনা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের মধ্যে এসেছে। আর সে কারণেই এই নির্বাচনগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া যায় কিনা এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটো দিক নিয়েই কথাবার্তা হচ্ছে।

এরমধ্যে ইতিবাচক দিকগুলো হয়েছে যে, দলীয় প্রতীক না দিয়ে উন্মুক্ত করে দিলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রকৃত নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে ভোটের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আবার এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে।

নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিলে এসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিতে পারে, তৃণমূল বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে। কারণ প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন ইচ্ছুক প্রার্থী রয়েছে। আর এরকম উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ইতিবাচক হবে না নেতিবাচক হবে সেটি ভেবে দেখা হচ্ছে। আর এই সমস্ত বিষয় গুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। এখন নির্বাচন আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সহ সকল স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে অংশগ্রহণ করতে হয়। দেখা যাচ্ছে যে, জাতীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না।

তাছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পোস্ট পর্যায়ে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রেও কতগুলো সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে জেলায়, উপজেলা থেকে যে স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ড গঠন হয়, সেই মনোনয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আছে। এমপিরা এবং দলের প্রভাবশালী নেতারা তাদের নিজস্ব পছন্দের ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেন, সেখানে যোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা যাচাই করা হয় না বলেই অনেকে অভিযোগ করেছেন।

অতীতেও এ ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় প্রতীক দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অনুপ্রবেশকারী দলের ভিতর ঢুকে যায় এবং প্রভাব বিস্তার করে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের যে চেয়ারম্যানরা রয়েছেন তাদের একটি বড় অংশ জামায়াত-বিএনপি থেকে আসা,

আওয়ামী লীগের টিকিট নেওয়া। কাজেই এই ধারা কিভাবে বন্ধ করা যায় সেটি আওয়ামী লীগের একটি চিন্তার বিষয় রয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ বিবেচনা করেই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।সূত্র:বাংলা ইনসাইডার

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.