ইভ্যালির সিইও রাসেলের গ্রেফতারে কী প্রতিক্রিয়া

অর্থ আত্মাতের মামলার দিনই আলোচিত ই-কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে রাসেলের অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেন র‌্যাবের লিগ্যাল মিডিয়ার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

গুলশান থানায় বৃহস্পতিবার সকালে রাসেল ও নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলাটি করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক ভুক্তভোগী গ্রাহক। মামলায় পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা জমা দিয়েও পণ্য না পেয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন তিনি।

মামলার বাদীর অভিযোগ, গত ২৯ মে ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ও তার বন্ধুরা কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। ২৯ মে থেকে ১৯ জুনের মধ্যে ছয়টি অর্ডারের বিপরীতে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা পরিশোধ করেন।ইভ্যালির সিইও রাসেলের গ্রেফতারে কী প্রতিক্রিয়া:

Amin Al Rasheed লিখেছেন, ইভ্যালির রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। প্রতারিত গ্রাহকদের পণ্য পাওয়া বা টাকা ফেরতের সম্ভাবনা কি কমে গেলো?

Habibullah Habib লিখেছেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এই খবর শুনার পর কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। আসলেকি ইভ্যালির সিইও রাসেল প্রতারক? অর্থ আত্মসাত করেছেন?

না তাদের গ্রেফতার করে আরেকটি সফল অভিযানের স্বীকৃতি অর্জন করলো প্রশাসন? তার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও ছিলনা। তাহলে কেনইবা তাকে গ্রেপ্তার। আমি মনে করি রাসেলকে গ্রফতার না করে বরং তাকে নজরদারিতে রেখে হাজার হাজার গ্রাহকের টাকা কিভাবে ফেরত দিবে সেই ব্যাবস্থা করা উচিত ছিল। ইভ্যালির সাথে আমার কোন লেনদেন নেই। তবে গত দুই দিন আগে আমার এক সহকর্মীর আটকে থাকা টাকা উদ্ধারের জন্য গিয়েছিলাম ইভ্যালির প্রধান কার্যালয়ে।

তো রাসেল সাহেবকে পেয়ে আমাদের টাকা কথা বলতেই এক দিনের মধ্যেই টাকা দেয়ার নির্দেশ দিলেন তার কর্মীদের। যথারিতি টাকা পেয়েও গিয়েছেন আমার সহকর্মী। নিঃসন্দেহে তিনি লাকি যে টাকা এ্যাকাউন্টে ঢুকার ঘন্টাখানেক পরই র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন রাসেল সাহেব। সেদিন তার সাথে দেখা করার পর যা বলেছিলেন সেবিষয়টি বলবো।

রাসেল সাহেব বলছিলেন ইভ্যালি যখন অ্যামাজন, আলিবাবার কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলো তখনই আমাদের উপর শুরু হয় নানা ধরনের ধাক্কা। এরপরতো জানেনই সোশ্যাল মিডিয়া , নাম করা গণমাধ্যম, আইনী বিধিনিষেধ সব ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় প্রতিষ্ঠানটি। রাসেল সাহেব বলছিলেন তিনি একটি টাকাও বিদেশে পাচার করেননি।

আমাকে যদি ফাঁসিও দেয় হয় তাতে কোন সমাধান হবেনা। কারন টাকাতো সব মানুষের কাছে। হিসেব দেখিয়ে বল্লেন ইভ্যালির কোন টাকা গোচ্ছিত রাখার সুযোগ নেই। কারন অর্ধেক টাকায় পণ্য দিয়ে আজ এতো বড় প্রতিষ্ঠান হয়েছে ইভ্যালি। এছাড়া দুদকের কাছে তার পাসপোর্ট জ্বব্দ থাকায় তার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার কোন সুযোগও নেই।

এখন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছেন তাতেকি সমাধান মিলবে। তাকে যদি জেল খানায় সারা জীবনও রাখা হয় তাতে গ্রাহকের ৪-৫ শো কোটি টাকা দিবে? এখন আমি বলবো ডিজিটাল দেশে যখন ইকমার্সের কোন নীতীমালা ছিলনা তখন কেন এসব প্রতিষ্ঠানের লাগাম টানা হয়নি। আলিবাবা, অ্যামাজনের মত ইকমার্স প্রতিষ্ঠান যখন বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হজার কোটি টাকা নিয়ে যায় তখন প্রশাসনের টনক নড়েনা।

রাসেলরা চাইলেও এই দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারবে? সন্দেহ আছে। এত কথা লিখার উদ্দেশ্য হলো দেশের টাকা দেশেই রাখতে যারা কাজ করছে তাদের বাধা নই, বরং ভুল থাকলে ধরিয়ে দিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা উচিত বলে আমি মনে করি।

Shahjahan Bikram লিখেছেন, সরকারী মনিটরিং এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়ে E-Commerce Business এ যে সব প্রতিষ্ঠানের নিকট গ্রাহকদের টাকা আছে সেই সকল প্রতিষ্ঠান চালু রাখা দরকার। তাহলে গ্রাহকদের টাকা দেরিতে হলেও তারা ফিরে পাবে। প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তাদের কাছে জমা হাজার কোটি টাকার দায় কে নিবে???? আগে থেকে এদের নীতিমালা দিয়ে তদারকিতে রাখলে গ্রাহকের এতো টাকা খোয়া যেতো না। ই-কমার্স Business ও দেশে ঝুকিতে পড়তে হতো না।

Javed Jabed লিখেছেন, ই-ভ্যালিতে যারা ইনভেস্ট করেছে তাদের অবস্থা হয়েছে অতি লোভে তাঁতি নষ্ট। আর বাংলাদেশে এর আগে যুবক,ইউনিপে,ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠান গুলোর কাছ থেকে কোন গ্রাহক কোন কিছুই ফেরত পায়নি।
ই-ভ্যালি থেকে ও পাবে বলে মনে হয় না। যারা ই-ভ্যালিতে ইনভেস্ট করেছে তাদের আরো সাবধান হওয়া উচিত ছিলো।

Arif Hasan লিখেছেন, সত্যিকারের অর্থে যে দেশটাকে ডিজিটালাইজেশনে করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল নিরন্তর, যে কখনো কোনো কিছুর প্রতিবাদ করেনি, আজকে তাকে গ্রেফতার করে দেখিয়ে দেওয়া হলো দেশে কোন উদ্যোক্তার মূল্যায়ন নেই।। অবিলম্বে রাসেল ভাইয়ের মুক্তি দাবি করছি এবং নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।।

Sagor Ahmad লিখেছেন, যেহেতু তার দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিলো এবং তার ব্যাংক হিসেব গুলো সরকারের নজরদারীতে ছিলো এমতবস্থায় তার পালানো বা অর্থপাচারের কোন সুযোগ ছিলো না। তাকে নজরদারীতে রাখা যেতো, গ্রেফতারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়া হলো।

বাংলাদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝামেলা সংক্রান্ত ইস্যূতে আইনের প্রয়োগ আমজনতা/গ্রাহকদের কোন উপকারে আসেনি এবং তাদের ক্ষতিপূরণে সরকারের কোন মাথাব্যাথা ও থাকে না। বরং জনগণের পেটে লাথি মেরে তাদের কারাগারে নারী সঙ্গ, আর মেডিকেলে বসে জুম মিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। অতীত ইতিহাস এমন ই

Abdur Rauf Khokon লিখেছেন, Business করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাহলে আমরা আমাদের pending order গুলো delivery পেতে পারি । তা নাহলে টাকা পুরাই ভোগে যাবে…

Md. Zulfiquer লিখেছেন, পাসপোর্ট জব্দ করুন,সময় বেঁধে দিন আর টাকা অথবা প্রোডাক্ট এর যে কোন একটি গ্রাহককে ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করুন।আর অতি লোভী গ্রাহকরা যারা দ্রুত বড় লোক হতে চান তারা তওবা করুন।

Faruk Ahmed লিখেছেন, ৬ মাসের সময় চেয়ে ছিল ১মাসের বেশি হয়ে গেছে। বাকী সময় টা তাকে দেওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।৬ মাস পার হলে যদি গ্রাহক দের পন্য ও টাকা ফেরত দিতে না পারে তখন যে কোন ব্যাবস্থা নিতে পারে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.