ইসরাইলকে কতদিন নিষিদ্ধ রাখবে বাংলাদেশ?

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নীরব পরিবর্তন হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাহরাইন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর আগে গত ১৩ আগস্ট সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছিল। এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিমানের ফ্লাইট ইসরাইলে যাওয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ১৬২টি দেশের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক করেছে ইসরাইল।

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ১৯৭৯ সালে মি’শরের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, আর জর্ডানের সঙ্গে হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের নীতি ও কৌশলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মেরুকরণ ঘটছে এবং ইসলামি রাষ্ট্রগুলো আস্তে আস্তে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছে কূটনীতিক বিশ্লেষকরা।

সেই ধারায় বাহরাইন-ইসরাইলের কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, একই ধারায় আরও কিছু মুসলিম রাষ্ট্র যারা ওআইসি’র বা আরব লীগের সদস্য তারা ইসরাইলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এটি নিয়েই কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বের যে দেশগুলো ফিলিস্তিনিদের অধিকারের ব্যাপারে সবচেয়ে সোচ্চার এবং বিশ্বের যে দেশগুলো ইসরাইলের সাথে কোন রকম সম্পর্ক করা থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে তারমধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠাতেই বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ইসরাইল ছাড়া এই পাসপোর্টটি সব দেশের জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরাইলের সঙ্গে সব ধরণের কূটনীতিক সম্পর্ক বন্ধ রেখেছে।

যে কয়টি বিষয়ে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলগুলো মোটামুটি একমত, তাহলো মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু, ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রশ্ন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির যে মেরুকরণ, সে মেরুকরণে কি বাংলাদেশ পড়বে? বাংলাদেশকে কি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনুরোধ করবে? বা এ ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করবে? এই রকম প্রশ্ন কূটনীতিক অঙ্গনে উঠছে।

বিশেষ করে গতকাল হঠাৎ করেই মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ড. মার্ক টি এসপারের টেলিফোন আলাপ নিয়ে কূটনীতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এসপার এমন একটি সময়ে এই টেলিফোনটি করেছেন যখন বাহরাইন ইসরাইলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করল। এই কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপনকে স্বাগত জানালো আরও দুইটি মুসলিম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী কি ইসরাইলের ব্যাপারে কোন কথা বলেছে?

যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে এই ধরণের সম্ভাবনার কথা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর টেলিফোনের বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল ও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এর আগেও যখন জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিলো,

তখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল। অনেক কূটনীতিকই মনে করছেন বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কিছু দেশ যদি ইসরাইলের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং যেটি করানোর জন্য ট্রাম্প সরকার মরিয়া হয়ে কাজ করছে, তাহলে অন্যান্য দেশগুলোর জন্য এই সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

তবে কূটনীতিকরা এটাও মনে করছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন। বিশ্বে হাতে গোনা যে কয়েকটি রাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের অধিকারের ব্যাপারে সোচ্চার এবং কথা বলে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। কাজেই বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সত্যিকার অর্থেই যে ইসলাম সেই ইসলামকে ধারণ করে বাংলাদেশ।

ইসলামের চেতনা, মর্মবাণী ও এর শান্তির বাণীকে ধারণ করেই বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ হয়তো হবে শেষ রাষ্ট্র যারা মধ্যপ্রাচ্যের যে পরিবর্তন সেই পরিবর্তনে সাড়া দিবে। বাংলাদেশ যে কোন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কোন সম্পর্ক স্থাপন করে না, সেটি অতীতেও প্রমাণিত হয়েছে, ভবিষ্যতেও প্রমাণিত হবে।

ইসরাইল ইস্যুতে সামনের দিনগুলোতে হয়তো বাংলাদেশের উপর নানা রকম কূটনীতিক আমন্ত্রণ ও চাপ আসতে পারে। কিন্তু এই রকম চাপ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অভ্যস্ত এবং বাংলাদেশ তার কূটনীতিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেই মনে করেন কূটনীতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *