একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভয় পেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের রাজনীতি সচেতন হতে হবে। রাজনীতি সচেতন না হয়ে সফল মানুষ হওয়া যায় না। সুনাগরিক হওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি সচেতন না হলে তোমরা নিজের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে পারবে না। রাজনীতি করো বা না করো কেউ রাজনীতির বাইরে নয়। তাই সবাইকেই রাজনীতি সচেতন হতে হবে। সঠিক রাজনীতি বেছে নিতে হবে।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবাইকে রাজনীতি সচেতন হতে হবে। এই ক্যাম্পাসে আসার পর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে ছাত্র রাজনীতিকদের সঙ্গে। এটি আমার ভালো লেগেছে। অর্থাৎ এই ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়। আমার দুইটি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভয় পেয়েছি। কারণ সেখানে লেখা আছে- ধুমপান ও রাজনীতিমুক্ত ক্যম্পাস।

অর্থাৎ ধূমপানের মতো রাজনীতিটাও পরিত্যর্জ্য। এই ম্যাসেজ সেই প্রতিষ্ঠান দেওয়ার চেষ্টা করছে। ডা. দীপু মনি বলেন, জীবনের সব ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিতেও ভালো-মন্দ আছে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে রাজনীতি ভলো নয়। রাজনীতি সেই জায়গা, যেখানে জীবনের সব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আমাদের ব্যক্তি জীবনটা কেমন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিই।

কিন্তু আমাদের জীবন-জীবিকা কেমন চলবে, দেশটা কেমন হবে, আমার লেখাপড়ার সুযোগ থাকবে কি থাকবে না, খবারের সংস্থান হবে কি হবে না, কাজের সংস্থান হবে কি হবে না, সকালে উঠে কলটা চালালে পানি আসবে কি আসবে না, সেই সিদ্ধান্তগুলো যেখানে গৃহীত হয় সেটাই রাজনীতি।

সেখানে দায়িত্বে পাশাপাশি ক্ষমতারও একটি যোগ আছে। সেখানে কিছু সুযোগসন্ধানী লোক আসতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, রাজনীতির জায়গা ঠিক নয়। মানুষের জন্যই রাজনীতি করতে হবে। মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক জীব। রাজনীতির বাইরে কেউ নয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বেও মানুষ নয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করো বা না করো, সেটা একেবারে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপচ্ছন্দের ব্যাপার। দলীয় রাজনীতি করবে কি করবে না সেটা তোমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাজনীতি সচেতন না হয়ে তুমি সফল মানুষ হতে পারবে না। সুনাগরিক হতে পারবে না।

কারণ তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় তোমার সিদ্ধান্ত, তোমার দেশের সিদ্ধান্ত কে নেবে সেই সিদ্ধান্ত তুমি সঠিকভাবে নিতে পারবে না। তাই তোমাকে রাজনীতি সচেতন হতেই হবে। ভালো আর মন্দের তফাৎ বুঝতেই হবে, সাদা আর কালোর তফাৎ করতেই হবে।

মন্ত্রী বলেন, রাজনীতির নামে অনেক কিছু দেখেছি। রাজনীতির নামে মানুষ পু’ড়ি’য়ে হ’ত্যা করতে দেখেছি, ষ’ড়য’ন্ত্র দেখেছি। রাজনীতির নামে দেশকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা দেখেছি, নারীদের হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিতে দেখেছি। রাজনীতির নামে জাতির পিতাকে হ’ত্যা করতে দেখেছি। তাকে হত্যা করে কোন্ রাজনীতি করা হলো?

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি সেটাই যার মধ্যে থাকে দেশের জন্য ভালোবাসা, দেশের সেবা, মানুষের জন্য ভালোবাসা, মানুষের সেবা। আশা করি তোমরা সবাই রাজনীতি করো বা না করো, সেই রাজনীতির সঠিক পথ তোমরা বেছে নিতে পারবে।

করে’না সং’ক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে টিকা কার্যক্রম বিস্তৃত করা হচ্ছে। সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। বিস্তৃতভাবে পাঠদান কবে শুরু করতে পারবো আমরা বলতে পারছি না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে মার্চ মাসে সং’ক্রম’ণ বেশি বাড়ছে। কাজেই আমাদের মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

কী অবস্থা দাঁড়ায় সেটা দেখার জন্য। তবে সং’ক্রম’ণ বাড়বে কিনা কতটা বাড়বে, আমা’দের কতটা দাম দিতে হবে, তার সবকিছু নির্ভর করছে আমাদের সবার ওপর। আমি যেখানেই যাচ্ছি, দেখছি কারো গলায় মাস্ক, কারো হাতে, কারো পকেটে। আবার কারো কারো মাস্ক বাড়িতে।

বাড়িতে থাকলেও হবে না, পকেটে থাকলেও হবে না, হাতে বা গলায় থাকলেও হবে না। সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একটু স্বস্থির জায়গায় এসেছিলাম। সংক্রমণ শতকরা একভাগে নেমে এসেছিল। এখন তিন ভাগে। এটা যেন না বাড়ে। আমাদের হাতেই কিন্তু বাড়া না বাড়া। আমরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.