এক টন আবর্জনা সরিয়ে ৭০ ফুট গভীর থেকে তোলা হয় সাদিয়ার লা’শ!

প্রায় ৫ ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস উ’দ্ধার অভিযান শেষে অবশেষে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ছাত্রী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়ার লা’শ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২:৫০ টার সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা ২০ বছর বয়সী এই ছাত্রীর লা’শ উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম নগরীর আ’গ্রাবাদের ড্রে’নের নিচ থেকে।

এর পরপরই সাদিয়ার স্বজনরা সাদিয়ার নিথর দেহটি নিয়ে স্থানীয় ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সাদিয়ার মৃ’ত্যু নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সাদিয়াকে উদ্ধারে ডুবুরি টিম প্রথমে নালায় নেমে তল্লা’শি করে। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি।

এরপর ক্রে’ন নিয়ে যাওয়া হয়। ক্রেন দিয়ে আবর্জনা অপসারণ শুরু হয়। একপর্যায়ে সিটি করপোরেশনের আরেকটি ক্রেনও ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজে যোগ দেয়। ততক্ষণে ওই সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়ে যায়। ফায়ার কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় ত’রুণরাও আবর্জনা অপসারণে যোগ দেন।

ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে নগরের ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ রানা জানান, সাদিয়া চশমা কিনে মামার সঙ্গে বাসায় ফিরছিলেন। ভাগনিকে উদ্ধারের জন্য মামা সঙ্গে সঙ্গে নালায় লাফ দেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে নালার বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি করেন ডু’বুরি দলের সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। চার ঘণ্টা পর নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে ৩০ গজ দূরে ওই নালা থেকে নি’হ’ত ছাত্রীর লা’শ উদ্ধার করা হয়।

এরপর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন বলেন, ‘সড়কের নিচে একটা নালা, প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত। আবার এর ভেতরে আরেকটা নালা পাওয়া যায়, সেটাও ৮ থেকে ১০ ফুট প্রশস্ত। সম্ভবত ৫০-৬০ বছর আগে সড়ক উঁচু করার সময় অপরিকল্পিতভাবে সেই নালা রেখেই আরেকটি নালা করা হয়।

আগের সেই নালা ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। কমপক্ষে সেখানে তিন টন আবর্জনা জমে আছে। অনেক চেষ্টা করেও ডুবুরি সেখানে যেতে পারেনি। সেটা আবার টার্ন নিয়েছে কর্ণফুলী নদীর দিকে দক্ষিণে। এরপর দুই ক্রেন মিলে আমরা সেই নালার স্ল্যাব উঠিয়ে এক টনের মতো আবর্জনা-মাটি অপ’সারণ করি। তখন আগের সেই নালার মধ্যে, কমপক্ষে সড়ক থেকে ৭০ ফুট গভীরে হবে, সেখানে আ’বর্জনায় আ’টকে আছে।

সব মিলিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টার পর আমরা লা’শ উদ্ধার করি।’ সাদিয়া চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী। তার বাসা হালিশহরের বড়পোল এলাকার মইন্যাপাড়ায়। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সাদিয়া ছিলেন সবার বড়।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.