এবার তারেককে মাইনাস চান খালেদা জিয়াও!

বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে এখন টালমাটাল অবস্থা বিরাজ করছে। নতুন নেতৃত্বের কথা বারবার বলা হচ্ছে। যোগ্য এবং সাবর্ক্ষনিক নেতৃত্ব ছাড়া বিএনপির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব না, একথা বলছেন বিএনপির নেতারাই। বিশেষ করে এমন একজন নেতা দরকার যার ভালো স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে। জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপি।

বিএনপি নেতারা মনে করেন জিয়াউর রহমানের একটি ভাবমূর্তি ছিলো, একটি ব্যক্তিত্ব ছিলো এবং একটি সততার ইমেজ তৈরি হয়েছিলো। আবার খালেদা জিয়ার একটি আপোষহীন ইমেজ তৈরি হয়েছিলো। দুই নেতার উপর ভর করে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অন্যতম জনপ্রিয় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নেতৃত্বের ব্যর্থতা এবং একজন যোগ্য নেতার অভাবের কারনেই বিএনপি বিভ্রান্ত, দিশেহারা এবং একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে বলে মনে করেন, বিএনপির একাধিক নেতা। আর এ কারনেই বিএনপিতে একজন যোগ্য নেতার প্রয়োজনীয়তার কথা এখন বেশ জোরেশোরেই বলা হচ্ছে। বিএনপিতে দলের চেয়ারপারসনই হলেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে মনে করা হয় মহাসচিবকে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র এমনভাবে সাজানো যেখানে একজন মহাসচিবের দায়িত্ব; শুধুমাত্র দলের চেয়ারম্যানের ইচ্ছা অনুয়ায়ী দলকে পরিচালনা করা। দলের চেয়ারম্যানের আদেশগুলোকে মাঠ পর্যায়ে প্রতিফলিত করা; চেয়ারম্যানের কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্দেশনাহীন; এবং শীর্ষ নেতৃত্বের যোগ্যতা,সততা এবং দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপির অবিসংবাদিত নেতা মনে করা হতো ২০০১ সাল পর্যন্ত। কিন্তু ২০০১ সালের পর থেকেই বিএনপির নেতৃত্বের দুটি ধারা শুরু হয়। একটি খালেদা জিয়ার ধারা আরেকটি তারেক জিয়ার ধারা। এবং তারেক জিয়ার ধারা ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে। বিশেষ করে তরুণ ও তৃণমূলের মধ্যে তারেক জিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এবং সেই সময় মনে করা হয়েছিলো যে তারেক জিয়াই বিএনপির পরবর্তী নেতা হতে যাচ্ছে।

কিন্তু তারেকের দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন এবং একের পর এক অপকর্মের ফলে; একজন নেতা হিসেবে তারেক জিয়ার যে জাতীয় ইমেজ সেটা বির্তকিত হতে থাকে। এবং তারেক জিয়া দলমতের উর্ধ্বে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া শুরু করেন। ২০০৭ এ ওয়ান-ইলেভেনের পর তারেকের কতৃর্ত্ব খর্ব হয় বিএনপিতে। বিশেষ করে লন্ডনে যাওয়ার পরে তিনি রাজনীতি করবেন কী করবেন না- এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে নানা রকমের সংশয় ও সন্দেহ ছিলো।

এ সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার নতুন করে সংগঠিত হতে থাকে এবং ২০১৪ পর্যন্ত বিএনপি খালেদা জিয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভালো ভাবেই মাঠে টিকে ছিলো। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।

২০১৪ এর নির্বাচন বর্জন করা ছিলো বিএনপির একটি আত্নঘাতী সিদ্ধান্ত। বিএনপির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাই মনে করেন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তের ফলেই বিএনপির বিভ্রান্তির রাজনীতির সূচনা হয়। নির্বাচনের পর টানা অবরোধ জ্বালাও, পোড়াও, ভাঙ্গচুর ইত্যাদির মাধ্যমে বিএনপি জনগণের কাছে প্রত্যাখাত হতে শুরু করে। বেগম খালেদা জিয়া

গ্রেফতারের পরই বিএনপিতে নেতৃত্বের প্রশ্ন আসে। আর ২০১৮ এর নির্বাচনে অংশগ্রহণ, মনোনয়ন বানিজ্য করা এবং টাকার বিনিময়ে একই নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থী দেয়ার কারণে তারেক জিয়া বিএনপিতে ভিলেনে পরিণত হন। সাধারণ মানুষের কাছে বির্তকিত হলেও দলের মধ্যে তিনি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।

২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর, তিনি দলেও বির্তকিত হয়ে যান। খালেদা জিয়া ২৫ মাস কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়ার পর রাজনীতি থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বিএনপির ব্যাপারে তিনি কোন নির্দেশনা বা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন না। নেতাদেরকে কোন গাইডলাইনও দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে তারেক জিয়া শুধুমাত্র তাঁর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া বিএনপির ব্যাপারে কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তারেক জিয়া বিএনপিকে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই মনে করছেন। এটা তাঁর আয় উপাজর্নের একটি পথ হিসেবেই বিবেচনা করেন বলে মনে করেন বিএনপির একাধিক নেতা।

এ রকম বাস্তবতায় বিএনপিতে এখন সর্ব্বোচ নেতৃত্বের সংকট প্রবল। ২০১৮ এর নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি থেকে তারেককে মাইনাস করার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ এরকম ব্যক্তিবর্গরা তারেককে আপতত রাজনীতি থেকে দুরে সরিয়ে অন্য কাউকে বিএনপির চেয়ারপারসন বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন প্রস্তাব করছেন।

যেহেতু খালেদা জিয়া এখন দল চালানোর মতো অবস্থায় নেই বলেই মনে করেন বিএনপি নেতারা। তারেক জিয়ার ব্যাপারে দলের মধ্যে তীব্র আপত্তি এবং অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় তারেক জিয়াকে দিয়ে বিএনপি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না, এমন মত প্রায় অধিকাংশ বিএনপি নেতার। প্রকাশ্যে না বললেও তারা গোপনে এটা স্বীকার করেন।

আর এ কারণেই বিএনপিতে নতুন নেতৃত্বের কথা বলা হচ্ছে। এবং তারেককে আপাতত মাইনাস করার কথা বলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও মনে করছেন যে, তারেক জিয়ার আপাতত বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থা নেই। কারন প্রথমত, তিনি বিদেশে থাকেন।

দ্বিতীয়ত, তাঁর সিদ্ধান্ত ও চিন্তা ভাবনাগুলো সুদূর প্রসারী নয়। এ কারনেই তারককে মাইনাস করে একজন নতুন নেতার হাতে বিএনপিকে আপদকালীন সময়ে দেয়ার কথা ভাবছেন খালেদা জিয়া। এটি নিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথেও কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারেক এবং খালেদার বাইরে, জিয়া পরিবারের বাইরে বিএনপির নেতৃত্ব কারো হাতে যাবে কিনা; সেটি গেলে বিএনপি অখন্ড থাকবে কি না; এটি নিয়েও বিএনপি নেতারা ভাবছেন বটে। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *