এ মাসের শেষে আসছে নতুন রাজনৈতিক দল

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে এবং দফায় দফায় হামলার শিকার হয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন নূরুল হক। পরে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে কথা বলে বারবার আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

আর বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে গঠন করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদসহ প্রায় পাঁচটি অঙ্গসংগঠন। এই প্রেক্ষাপটে যুগান্তরকে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে করোনাকালে দেশের পরিস্থিতি, নতুন রাজনৈতিক দল করার চিন্তা পরিকল্পনাসহ নানা বিষয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহাদী হাসান।

আপনারা যে রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সেটির অগ্রগতি কতদূর? মার্চ মাসে আমাদের রাজনৈতিক দল ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল কিন্তু মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং আমাদের বেশকিছু সহযোদ্ধাকে গ্রেফতারের কারণে আমরা একটি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এখন রাজনৈতিক দল গঠনের আগে অন্যান্য যে কাজ আছে সেগুলো গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

ইতোমধ্যেই ছাত্রদের নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুবকদের নিয়ে যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসীদের নিয়ে প্রবাসী অধিকার পরিষদ, সর্বশেষ আমরা পেশাজীবীদের নিয়ে পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠন করেছি। আরেকটা অঙ্গ-সংগঠন ‘নারী অধিকার পরিষদ’ গঠনের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

আমাদের নিজেদের গণ্ডির বাইরেও দেশের যে সব মানুষ আইনের শাসন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এসব বিষয়ে কাজ করছেন। এদেরকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। তাই বলা চলে আমাদের রাজনৈতিক দল গঠনের যে সব কাজ আছে সেগুলো শেষ পর্যায়ে। পরিস্থিতি ঠিক থাকলে এ মাসের শেষেই আমরা সেটি ঘোষণা করতে চাচ্ছি।

আপনাদের নতুন রাজনৈতিক দলে কোনো চমক থাকবে কি না? আমাদের উত্থানটাই বলতে গেলে একটা চমক এর মধ্য দিয়ে। কারণ সাধারণ ছাত্রদের কোটা সংস্কারের যে দাবি ছিল সেই দাবিকে কেন্দ্র করে আমাদের উত্থান। আর এ দাবি আদায়ে নানা নির্যাতন, নিপীড়ন, বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়েও দাবি আদায়ের আন্দোলকে সফল করতে হয়েছে। এরপর ডাকসু নির্বাচন এবং গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে আমাদের একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের কাঠামো কেমন হবে? আমরা চাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মাঠে যারা আমাদের সঙ্গে আছেন, তাদেরকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে। সেক্ষেত্রে বলা চলে একটা চমকই অপেক্ষমাণ।

আপনাদের রাজনৈতিক দলের মিশন ভিসন কেমন হবে? আমাদের দেশের রাজনীতিতে রাজনীতিকে অনেকে বামপন্থি ও ডানপন্থি ধারায় বিভক্ত করে। আমাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে কোন পন্থি না হয় গণমানুষের জন্য, গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করা। একটি দলের মিশন ভিসন কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়।

আমাদের অন্যতম একটি প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা গুণগত পরিবর্তন আনা এবং রাজনীতিতে যাতে সৎ সাহসী ও যোগ্য লোকটা আসতে পারে তার পরিবেশ তৈরি করা। রাজনীতিতে সঠিকভাবে কাজ করতে হলে সংবিধানেরও বেশ কিছু বিষয় সংশোধন প্রয়োজন, বিশেষ করে ৭০নং অনুচ্ছেদ।

নতুন রাজনৈতিক দলের নাম কী হবে? গণঅধিকার পার্টি, গ্রিন পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ বিভিন্ন নাম আলোচনায় আছে। তবে আমাদের অন্যান্য সংগঠনে অধিকার শব্দটি আছে তাই চাচ্ছি এই শব্দটাকে প্রাধান্য দেওয়ার। ইতোমধ্যেই ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’ নামে একটি স্লোগান তৈরি করেছি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনাদের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না? আগামী নির্বাচন নিয়ে অবশ্যই আমাদের একটি টার্গেট রয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০১৪, ১৮ সাল থেকে বলতে গেলে ভোট একেবারেই নির্বাসনে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনকে কীভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে রূপদান করা যায় সে বিষয়ে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি আছে।

গণতান্ত্রিক দলগুলোকে নিয়েও আমাদের একটা চিন্তাভাবনা আছে। আমরা চাই, সব দলকে নিয়ে নব্বইয়ের মতো বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে। তবে আমরা যে একটা বিকল্প রাজনৈতিক দল হচ্ছি সেই বার্তাটা দেওয়ার জন্যই সংসদ নির্বাচনে এককভাবে নিজেদের দলের ব্যানারেই অংশগ্রহণ করব।

আপনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান? এটা আসলে নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে নিজ এলাকা না ঢাকা থেকে নির্বাচন করব।

সরকার একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আশ্বাস দিয়েও খুলছে না। এর পেছনে কী কারণ আছে বলে আপনি মনে করেন? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই রাখা হয়েছে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে। কারণ কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সরকার ঘরানার অনেক বুদ্ধিজীবী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সরকারকে কিন্তু বারবার সতর্ক করেছে যে আগামীর দিনগুলোতে সরকারের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ না থাকলেও সামাজিক কিংবা ছাত্র আন্দোলন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মুক্তিযুদ্ধের পর জাসদের মতো সংগঠন যেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঠিক সেভাবেই ছাত্র অধিকার পরিষদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর সরকার এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবেই নিয়েছে। কারণ অন্য দলগুলোকে যেভাবে লোভ, লালসা, ভয়ভীতি দেখিয়ে সমঝোতায় নিতে পারলেও আমাদের পারছে না। সে কারণে আমার মনে হচ্ছে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের চাপ কমানোর জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে।সূত্র:যুগান্তর

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.