করোনা মোকাবিলায় পাকিস্তানকে দেখে শিখুন: ডব্লিউএইচও

মাত্র ছয় মাসে করো’না ভাই’রাসকে নিয়ন্ত্রণে এনে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। এবার, কীভাবে করো’না মোকাবিলা করতে হয় তা ইসলামাবাদকে দেখে বাকিদের শিখতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।

প্রথমদিকে, পাকিস্তানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে করো’নার সং’ক্রম’ণ। আর তা নিয়ে ইমরান খান প্রশাসনকে নিয়ে তু’মুল সমালোচনা করেছিল সে দেশের বাসিন্দারাই। তাদের অ’ভিযোগ, এমনিতেই সে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দুর্বল। স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ নগণ্য। আবার অর্থনীতির দোহাই দিয়ে তড়িঘড়ি লকডাউনও তুলে দিয়েছে ইমরান প্রশাসন।

তারপরেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে করো’না সং’ক্রম’ণের হার অনেকটাই কমেছে। কমেছে দৈনিক মৃ’ত্যুর হার। পরিসংখ্যান বলছে, দৈনিক মৃ’ত্যুর সংখ্যা ১০-এর ও নিচে রয়েছে এখন। সে দেশে করো’না আ’ক্রা’ন্তের সংখ্যা মোটে তিন লক্ষ। আর মৃ’তের সংখ্যা সাত হাজার ছুঁইছুঁই।

এই পরিস্থিতি অবাক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে করো’না মোকাবিলায় পাকিস্তানের ভূমিকার কথা বললেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। তার দাবি, পোলিও মোকাবিলার জন্য গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো বহু বছর ধরে পাকিস্তানে গড়ে উঠেছে। সেই পরিকাঠামোই ম’হামা’রী সং’ক্রম’ণের প্রতিরোধে কাজে লেগেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, বাড়ি-বাড়ি ঘুরে পোলিওর টিকা দেওয়ায় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা এই যু’দ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি, কনট্র্যাক্ট ট্রেসিং এবং যত্ন নেওয়ার কাজে ব্যবহার করায় সং’ক্রম’ণের মাত্রা কমেছে।’ করো’না মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে দেশগুলির প্রশংসা করেছে, সেই তালিকায় আবার ভারতের নাম নেই।

ইতিমধ্যে, টুইট করে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রাক্তন স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ডা. জাফর মির্জা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি পাকিস্তানের মানুষের কাছে বড় সম্মান বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটিতে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তার আগে সব শিক্ষক ও কর্মচারীদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে, ওয়ার্ল্ডওমিটার বলছে ইতিমধ্যে ভারতে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে সেই পরীক্ষার সংখ্যা মাত্র ৩০ লক্ষ। আর এতেই আসল করোনা নিয়ন্ত্রণে আনার রহস্যটা লুকিয়ে রয়েছে বলে কটাক্ষ করছেন নেটিজেনরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *