কারা আসছেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ পদে?

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মেয়াদ কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই পদগুলো পূরণ নিয়ে এখন প্রশাসন ও সরকারের মধ্যে নানারকম আলাপ আলোচনা চলছে। এই পদগুলো নানা দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য অনেকেই এই পদগুলোতে আসতে আগ্রহী। এসব পদে নতুন কাউকে আনা হবে, নাকি পুরোনোদেরই মেয়াদ বাড়ানো হবে তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই পদগুলোতে কারা আসতে পারেন সেটাই একটু দেখে নেওয়া যাক-

১. মন্ত্রিপরিষদ সচিব: মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আগামী ১৫ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে যোগদান করেন তিনি। এই পদে যোগদানের পূর্বে তিনি সেতুবিভাগের সিনিয়র সচিব পদে ছিলেন। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ১৫ ডিসেম্বর তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব কে হবেন, তা নিয়ে এখনই আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ নিয়ম হলো, প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই পদে আসেন। বর্তমানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম। তিনি পরবর্তী মন্ত্রিপরিষদ সচিব হতে পারেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।

২. প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব: জানুয়ারিতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের মেয়াদ। অনেকেই মনে করছেন, তাকে হয়তো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে ড. আহমেদ কায়কাউস যে ধরনের ব্যক্তি, তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিতে আগ্রহী হবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যদি চান, তাহলে তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। দক্ষতার সাথে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছেন। বিশেষ করে করোনা সংকটের সময় তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার দক্ষতা, সততা, দায়িত্ববোধ সব মহলেই প্রশংসিত হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

৩. দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ড. ইকবাল মাহমুদের মেয়াদও জানুয়ারিতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রেও দুটো বিষয় রয়েছে। প্রথমত; দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে ইকবাল মাহমুদের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। নয়তো এই পদে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, সরকারের একটা অংশ ইকবাল মাহমুদের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে ভাবছে।। শেষ পর্যন্ত এটা না হলে অবধারিতভাবেই এই পদে নতুন মুখ আসবে। সেক্ষেত্রে এই পদে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছেন দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান। তিনি একসময় জনপ্রশাসন সচিব ছিলেন।

একজন সৎ ও দক্ষ আমলা হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। তাকে দুদক চেয়ারম্যানের পদে আনা হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। বিভিন্ন কারণেই এই তিনটি পদ সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সততা, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ এবং অতীত ইতিহাস মূল্যায়ন করেই এই পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*