চার দশকে বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, হয়েছে শক্তিশালী

গত চার দশকে দেশে বেড়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত। ১০ বছর আগেও যেখানে বিরতি দিয়ে বন্যা হতো সেখানে এখন প্রতি বছরই আঘাত হানছে শক্তিশালী বন্যা। শক্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্ষতির পরিমাণও। সাম্প্রতিক সময়ের আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের তুলনা করলেই বেরিয়ে আসছে জলবায়ু পরিবর্তন কতোটা বিরূপ প্রভাব ফেলছে এখানে। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি আর ভেঙে পড়ছে সমাজ ব্যবস্থা।

চলতি বছরের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্পান লণ্ডভণ্ড করেছে দেশের উপকূল। যার শুধুমাত্র প্রাথমিক ক্ষতিই ছিল ১১শ কোটি টাকার বেশি। সেই ক্ষতি পোষাতে যখন চলছে ম’রণপণ লড়াই, এরই মধ্যে চলে এলো বাঁধ ভাঙা বন্যা। পরপর দুই ধাপের এ বন্যা প্রায় অর্ধকোটির বেশি মানুষকে ভাসিয়ে রেখেছে টানা একমাস ধরে।

১৯৮৫ সাল থেকে বন্যা পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দু-একবছর পর পর বন্যা হতো দেশে। কিন্তু ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তা প্রতি বছরে পৌঁছে। এরপর আবারো দু-একবছর পরপর এলেও ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবছর টানা বন্যা হচ্ছে।

এবারের বন্যা ছুঁতে যাচ্ছে ১৯৯৮ সালের বন্যার স্থায়ীত্বকেও। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল রাজী বলেন, বাংলাদেশের ভেতরে বৃষ্টিপাতের সংখ্যা বেশি তাই বন্যাও হচ্ছে।

বন্যার মূল কারণ ভারী বৃষ্টিপাত। নাসা থেকে বৃষ্টির তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, যেখানে সারা বছরের গড় বৃষ্টিপাত হয় ২ হাজার ১৪৮ মিলিমিটার, সেখানে শুধু জুন-জুলাইয়ে এ অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১২০০ মিলিমিটার।

বুয়েট পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, এবারের বন্যা বিগত কয়েক বছরের বন্যা থেকে কিছু ব্যতিক্রম। ভবিষ্যতের বন্যা আরো বেশিসময় থাকতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উজানের দেশগুলোকে নিয়ে যৌথ বন্যা ব্যবস্থাপনারও পরামর্শ এ জলবায়ুবিদের।

দেশের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল ছুঁয়ে বন্যার পানি এখন পৌঁছেছে রাজধানীতে। যা স্পষ্ট করছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। এতে ভেঙে পড়ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থাও। গবেষকরা বলছেন, এখনি প্রস্তুতি না নিলে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *