চিকিৎসকের মামলা কেন নেওয়া হয়নি, জানতে চান আইজিপি

গত বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীতে ডা’কা’ত দলের হাতে পড়েন শফিকুল ইসলাম সজীব নামের এক চিকিৎসক। তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও চোখ বেঁধে রাতভর তাকে বে’দম পে’টান ডা’কা’ত দলের সদস্যরা। রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে দূরপাল্লার বাসে ওঠার পর রাতভর ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ঘোরানো হয় তাকে।

সকালে নামিয়ে দিলে থানায় মা’মলা করতে যান ওই চিকিৎসক। তবে ওই চিকিৎসকের মা’মলা নেয়নি যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। ডা’কা’তির ঘটনায় ভুক্তভোগী ডা. শফিকুলের মাম’লা কেন নেওয়া হলো না, তা জানতে চেয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) পুলিশ সপ্তাহে কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সভায় এ প্রশ্ন রাখেন আইজিপি। এসময় দ্রুত মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

পুলিশ সপ্তাহের একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আইজিপি স্যার সম্মেলনে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জানতে চান, টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের মামলা নেওয়া হলো না কেন। কর্মকর্তাদের কাছে এ নিয়ে ব্যাখ্যাও জানতে চান তিনি।

এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। জানা যায়, যে ডাকাত দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনা’ক্তে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশের গোয়েন্দা ইউনিটগুলো।

তবে এখনই মামলা করতে চাইছেন না ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম সজীব। তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী থানা ও উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা ফোন দিয়েছিলেন মামলা করার জন্য। তবে ডাকাতির ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে ট্রমার মধ্যে রয়েছি। আমি স্বাভাবিক হলে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মোর্শেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, মামলা নেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশনা আছে। আমি ভুক্তভোগী চিকিৎসককে বার বার ফোন দিচ্ছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি আসেননি। গতকালও তার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন আসবেন কিন্তু আসেননি। তিনি এলে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা নেওয়া হবে।

গত ২০ জানুয়ারি বন্ধুর সঙ্গে ঢাকা থেকে কর্মস্থল টাঙ্গাইলে রওনা হন ডা. শফিকুল ইসলাম। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে ওঠেন ঢাকা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের একটি বাসে। মিনিট ১৫ পর তারা বুঝতে পারেন যাত্রীবেশে থাকা বাসের অধিকাংশই ডাকাত।

রাতভর রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে যাত্রী তোলে বাসটি। মা’রধ’র করে তাদের কাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নেয় যাত্রীবেশী ডা’কা’তরা। পরে ভুক্তভোগীদের নামিয়ে দেওয়া হয় অ’জ্ঞাত স্থানে। ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলাম সজীব জানান, গত শুক্রবার সকালে মাতুয়াইলে রাস্তার পাশে বাসটি ফেলে পালিয়ে যায় ডা’কা’তরা।

সেখান থেকে প্রথমে যাত্রাবাড়ী থানায়, পরে ঢাকার অন্য প্রান্ত উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ জানাতে যান তিনি। কিন্তু আব্দুল্লাপুর থেকে বাসে ওঠায় এবং যাত্রাবাড়ীতে বাস থেমেছে এমন অজুহাতে মামলা নেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ক্ষো’ভ আর কষ্টের কথাও জানান সরকারি হাসপাতালের এই চিকিৎসক।

Sharing is caring!