চীন-ভারত যু’দ্ধের দামামা, কার শক্তি কত?

প্রায় মাসখানেক ধরে লাদাখ সীমান্তে মুখোমুখি ভারত ও চীনের সৈন্যদল। দুই দেশের সেনারা ইতিমধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরালও হয়েছে। সেই রেশ ধরে উঠে গেছে ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ রব। শুধু সামাজিক মাধ্যমেই যে যুদ্ধের ধোঁয়া তোলা হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। বরং সীমান্তে নিজেদের ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ করা শুরু করে দিয়েছে দুই দেশই। ফলে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ দিকে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

দুই দেশের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসার ও কূটনৈতিকরা যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন, কিন্তু অন্তরালে তারা ঠিকই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ঘোষণাই দিয়ে ফেলেছেন।

সীমান্তে নিজেদের ঘাঁটিতে আর্টিলারি, ইনফ্রান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকেল ও আরও অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে ফেলেছে চীন। আর ভারতও একাধিক ভারী যুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় একটু দেখে নেওয়া যাক সামরিক শক্তিতে কোন দেশ কত শক্তিশালী-

পিডব্লিউআর ব়্যাঙ্কিং সামরিক শক্তির এই ব়্যাঙ্কিংয়ে ভারতের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ তিন নম্বারে আছে চীন আর ভারত আছে চার নাম্বারে। সক্রিয় সেনাসদস্য ১৩৮ টি দেশের মধ্যে পিআরডব্লিউ ইনডেক্সে তৃতীয় স্থানে থাকা চীনের মোট ২১ লক্ষ ২৩ হাজার সেনাসদস্য রয়েছে, ভারতের রয়েছে ১৪ লক্ষ ৪৪ হাজার সেনাসদস্য।

তবে রিজার্ভ সৈন্যর সংখ্যায় ভারত এগিয়ে৷ চীনের পাঁচ লাখ ১০ হাজারের বিপরীতে তাদের রয়েছে ২১ লাখ রিজার্ভ সৈন্য। প্রতিরক্ষা বাজেট প্রতিরক্ষা বাজেটে চীনের ধারে কাছেও নেই ভারত। প্রতিরক্ষা খাতে চীনের বাজেট ২৩৭০ কোটি ডলারের এবং ভারতের মাত্র ৬১০ কোটি ডলারের।

যুদ্ধজাহাজ চীনের ৭৭৭টি আর ভারতের রয়েছে ২৮৫টি যুদ্ধজাহাজ। সাবমেরিন সাবমেরিনের সংখ্যার দিক থেকেও ভারত অনেক পিছিয়ে। চীনের ৭৪টির বিপরীতে ভারতের আছে ১৬টি সাবমেরিন।বিমানবাহী জাহাজ চীনের ২টি, ভারতের ১টি। ট্যাঙ্ক ভারতের ট্যাঙ্ক চীনের চেয়ে অনেক বেশি। চীনের আছে ৩৫০০টি ট্যাঙ্ক আর ভারতের ৪২৯২টি।

সাঁজোয়া যান চীনের সাঁজোয়া যানবাহনের সংখ্যা ৩৩ হাজার, ভারতের আট হাজার ৬৮৬এয়ারক্রাফট এখানেও চীন এগিয়ে। চীনের ৩২১০টির বিপরীতে ভারতের রয়েছে ২১২৩টি এয়ারক্রাফট। যুদ্ধবিমান চীনের যুদ্ধবিমান ভারতের দ্বিগুণেরও বেশি। চীনের ১২৩২টি আর ভারতের ৫৩৮টি হেলিকপ্টার চীনের আছে ৯১১টি হেলিকপ্টার আর ভারতের ৭২২টি। স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি এখানে দু দেশের তুলনাই হয় না। চীনের আছে ৩৮০০, ভারতের মাত্র ২৩৫।

ফিল্ড আর্টিলারি এখানে ভারত কিছুটা এগিয়ে। চীনের ৩৮০০-র বিপরীতে তাদের রয়েছে ৪০৬০টি ফিল্ড আর্টিলারি।রকেট প্রজেক্টর চীনের ২৬৫০, ভারতের ২৬৬৷ সুতরাং এখানে চীন প্রায় দশগুণ এগিয়ে। ডেস্ট্রয়ার চীনের ৩৬টি, অন্যদিকে ভারতের ১০টি।

ফ্রিগেট চীনের ৫২, ভারতের তার ঠিক চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১৩টি। রণতরি রণতরি চীনের ৫০টি, ভারতের ১৯টি। বিমানবন্দর চীনের আছে মোট ৫০৭টি বিমানবন্দর আর ভারতের ৩৪৭টি। নৌবন্দর এবং টার্মিনাল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন প্রায় সব জায়গার মতো এখানেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশের চেয়ে এগিয়ে। চীনের২২টির বিপরীতে তাদের রয়েছে মোট ১৩টি বন্দর ও টার্মিনাল। উপকূলীয় টহল চীনের ২২০, ভারতের ১৩৯।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *