চুমু’র ভিডিও টিকটকে, স্কুলছাত্রীর আত্মহ’ত্যার হুমকি!

বরগুনার পাথরঘাটায় অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোর করে চু’মু খাওয়ার ভিডিও টিকটকের ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মা’মলা না নেওয়ার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী আ’ত্মহ-ত্যার হুম’কি দিয়েছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, মাম’লা করতে নয়; ওই শিক্ষার্থীর মা থা’নায় এসেছেন মৌখিকভাবে অভিযোগ করতে।

এ ঘ’টনায় অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এই সংবাদে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ওই ছাত্র ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর সহপাঠী। এছাড়াও সে পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের এক সৌদি প্রবাসীর ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ঘট’নায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থী একই স্কুলের একই শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এজন্য তারা একে অপরের সহপাঠী।

সেই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে প্রে’মের প্র’স্তাব দিয়ে আসছিল ওই ছাত্র। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রীকে পথে-ঘাটে উ’ত্ত্যক্ত করার অ’ভিযোগ করেছেন তারা। তারা আরও বলেন, গত বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্কুল ছুটির আগেই ওই ছাত্রীর স্কুলব্যাগ নিয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে যায় অভিযুক্ত ছাত্র। এরপর স্কুল ছুটি শেষে ব্যাগ আনতে গেলে ওই ছাত্রীকে জোর করে চু’মু খায় ওই ছাত্র।

এসময় জোর করে চু’মু খাওয়ার দৃশ্য পাশ থেকে মোবাইল ফোনে ধারণ করেন তাদেরই আরেক সহপাঠী। পরবর্তীতে এই ভিডিও টিকটকের ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, ল’জ্জায় আমি এ বিষয়টি কাউকে জানাইনি। কিন্তু শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনার ভিডিও আমার এক প্রতিবেশী আমাকে দেখায়। তখন আমি আমার মাকে বিষয়টি জানাই। এরপর থা’নায় মা’মলা করতে গেল পুলিশ মা’মলা নেয়নি।

তাই আমি আ’ত্ম’হ-ত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্র আমার মেয়েকে উত্ত্য’ক্ত করে আসছে। এ নিয়ে বছর খানেক আগে ওই ছাত্রের মামার কাছে নালিশ করেও কোনো সমাধান পাইনি। এরপর গত বুধবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে অ’সভ্যতা করেছে ওই ছাত্র।

তিনি আরও বলেন, শুধু অস’ভ্যতা করেই ক্ষান্ত হয়নি; সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে টিকটকে ছড়িয়ে দিয়েছে। টিকটক থেকে সেই ভিডিও এখন ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। আমি এ ঘটনার বিচার চেয়ে মা’মলা করতে গেলে পুলিশ আমার মা’মলা নেয়নি। তাই আমার মেয়ে এখন আ’ত্মহ-ত্যার হু’মকি দিচ্ছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি আমার মেয়েকে বাঁচাতে চাই।

পাথরঘাটার স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগে অন্য আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছিলেন অভিযুক্ত এই ছাত্র। তখন যৌ.ন হ’য়রা’নি ও মা’রা’মা’রিসহ ওই শিক্ষার্থীর বি’রুদ্ধে উচ্ছশৃঙ্খল আ’চরণের ব্যাপক অভি’যোগ ওঠে। এরপর ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে বহি’ষ্কার করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এবং তার মা থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে আমাকে অবগত করেছেন।

এসময় মামলা না নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা মা’ম’লা করতে থানায় আসেননি। থানায় এসেছিলেন আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবগত করতে। তারা যদি মামলা করতে চান অবশ্যই তাদের মাম’লা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.