চোখ এখন শামীম ওসমানের দিকে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কর্মীদের অনেকের চোখ এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দিকে। তিনি এখনো তাঁর অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট করেননি। তবে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, শামীম সময়মতোই মাঠে নেমে নৌকার পক্ষে অবস্থান নেবেন।

অন্যদিকে মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী নৌকার সমর্থকদের একাট্টা করে জোয়ার তুলে জয়ের ধারাবাহিকতা রাখতে কাজ করছেন। অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আইভী চান বিজয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভিতরগত অবস্থা মাঠে জিইয়ে রেখেই নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিতে কাজ করছেন তৈমূর আলম খন্দকার।

তবে গতকাল তাঁর দলীয় পদ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতির চিঠি পাওয়ার পর তৈমূর খন্দকার বলেছেন, ‘নির্বাচনে আছি, শেষ পর্যন্ত থাকব। গতবার দল আমাকে বসিয়ে দিয়েছিল। এখন আমার আর কোনো বাধা রইল না। বসানোর জন্য ফোন করতে পারবে না।’

জানা যায়, ১৬ জানুয়ারি নাসিক নির্বাচন। নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন পেয়েছেন সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আওয়ামী লীগের মনোনয়নের ঘোষণার পর থেকেই সবার প্রশ্ন, স্থানীয় আওয়ামী লীগে প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান কি আইভীকে সমর্থন দেবেন?

কেননা নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর বিরোধ সারা দেশে আলোচিত। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত দলীয় প্রার্থীর পক্ষে শামীম ওসমান বা তাঁর কর্মীবাহিনী কি মাঠে নামবেন? আগ্রহ আরও বেড়েছে কারণ ২০ ডিসেম্বর নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর নেতাদের বৈঠকে শামীম ওসমান অনুপস্থিত ছিলেন।

ওই সময় তিনি মাসদাইর কবরস্থানে মা-বাবা ও পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারতে ছিলেন। এ ছাড়া ১০ দিনের মধ্যে শামীম ওসমান জেলা প্রশাসক আয়োজিত ধলেশ্বর নদে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানে যোগ দেন, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবে প্রায় দুই দফা নিজ উপজেলার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাংগঠনিক বৈঠক করেন। তবে কোনো সভায় আইভী বা সিটি নির্বাচন বা আইভীর সমর্থনে মাঠে নামা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আইভী বললেন, আমি জয় নিয়ে আশাবাদী : সেলিনা হায়াৎ আইভী একে একে চষে বেড়াচ্ছেন নাসিকের ২৭ ওয়ার্ডের পাড়ামহল্লার অলিগলি। প্রচারণায় অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। ভোটারদের দরজায় কড়া নেড়ে একটি কথাই বলে যাচ্ছেন- ‘সুযোগ দিন অসমাপ্ত কাজ ও চলমান উন্নয়ন শেষ করার।’

নাসিকের আওতাধীন দুটি উপজেলা সদরের শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের ১০-১২টি ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। গতকাল সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণার সময় আইভী বলেন, ‘যে প্রার্থী সবুজায়নের কথা বলে জলাশয় ভরাট করতে চান, আপনাদের বুঝতে হবে তিনি দ্বৈত কথা বলছেন।

তিনি কারও শেখানো কথা বলছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জের বাস্তব উন্নয়নটা জানেন না এবং বুঝে উঠতে পারেননি নারায়ণগঞ্জে কী কী কাজ হচ্ছে।’ আইভী বলেন, ‘আমি বিগত পাঁচ দিন যাবৎ প্রচারণা চালাচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি মুক্তিযোদ্ধা, এলাকাবাসী, আমাদের দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে আমার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বরাবরই সুষ্ঠু এবং সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। যে প্রার্থী বলেছেন তিনিও জানেন যে নারায়ণগঞ্জে সব সময় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আমি বিশ্বাস করি এবং নির্বাচন কমিশনকেও অনুরোধ করব বিগত সময়ে যেভাবে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে তারা যেন আমাদের এ রকম সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে যেভাবে উন্নয়ন হয়েছে প্রচুর কাজ হয়েছে। আমি কখনো মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিইনি, অন্যায় কাজ করিনি, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী করিনি। সবকিছু মিলিয়ে জনগণ আমাকে রায় দেবে।’

পদ হারানোর পর তৈমূর বললেন আলহামদুলিল্লাহ : নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় দফতরের এক চিঠিতে তাঁকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

এক লাইনের ওই চিঠিতে বলা হয়- ‘মাননীয় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যের পদ থেকে আপনাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, তৈমূর আলম খন্দকারকে তাঁর পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পদ থেকেও তৈমূরকে প্রত্যাহার করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার খবরে খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। দল থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আমি খুশি হয়েছি এ খবরে। তারেক রহমান সাহেবকে এজন্য ধন্যবাদ দিচ্ছি।

এখন আর আমাকে কেউ টেলিফোন করে নির্বাচন থেকে বসিয়ে দিতে পারবে না। কারণ এখন আমি জনগণের তৈমূর। নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের তৈমূর। আমি জনতার ও রিকশাওয়ালাদের তৈমূর ছিলাম, রিকশাওয়ালাদের তৈমূরই হয়ে গেলাম। ঠেলাগাড়িওয়ালাদের তৈমূর ছিলাম, তাদেরই রয়ে গেলাম।

তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হয়নি।’ গতকাল বিকালে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নির্বাচনে থাকছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তৈমূর আলম বলেন, ‘এখনো আছি।

গতবার তো দল আমাকে বসিয়ে দিয়েছিল। এখন আমার আর কোনো বাধা রইল না। বসিয়ে দেওয়ার জন্য আর কেউ ফোন করতে পারবে না। তবে বিএনপি এটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি জনগণের সঙ্গে আছি। জনগণের সঙ্গেই থাকতে চাই। জনগণই আমার সব।’ এর আগে বন্দরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসুল দরগাহ, একরামপুর, ইস্পাহানি, কলেজ রোড, চিতাশালে গণসংযোগ করেন তৈমূর আলম খন্দকার।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.