চ্যালেঞ্জের মুখে আ’লীগের প্রভাবশালীরা

সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান চলছে। এই শুদ্ধি অভিযানের ধরণ পাল্টে গেছে। ফরিদপুরের পরে কুষ্টিয়ায় এখন শুরু হয়েছে শুদ্ধি অ’ভিযান। একাধিক জেলায় এই শুদ্ধি অভিযানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই শুদ্ধি অভিযানে আপাত ভাবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হলেও, এই শুদ্ধি অভিযান অনেক অস্বস্তিতে ফে’লেছে আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাকে।

এই শুদ্ধি অ’ভিযানের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা এলাকায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এর প্রধান কারণ হল যারা শুদ্ধি অভিযানে আটক হচ্ছেন তারা সবাই প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠজন বা তারা প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, বলে মনে করেন অনেকে।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত শুদ্ধি অভিযান হয়েছে ফরিদপুরে। সেখানে নগর আওয়ামী লীগের নেতা, নগর ছাত্রলীগের নেতা, নগর যুবলীগের নেতাসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদেরকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে।

দেখা গেছে যে, এই সমস্ত স্থানীয় নেতারা এলাকায় এভাবে দুর্বিনীত হয়ে উঠেছিলো, তার মূল কারণ ছিল স্থানীয় প্রভাবশালী এমপি, যিনি দুই দফা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় এই সমস্ত স্থানীয় নেতারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং আওয়ামী লীগের যারা ত্যাগী, পরীক্ষিত ছিল তাদেরকে কোণঠাসা করে এই এলাকায় তাদের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন।

এখন এই শুদ্ধি অভিযানের ফলে এক ধরণের অস্বস্তি এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাবেক এই মন্ত্রী। এরপর থেকে তিনি এলাকায় যাচ্ছেন না, বলেও জানা গেছে। এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি থেকে তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

একইভাবে এখন চলমান কুষ্টিয়ায় শুদ্ধি অভিযানে স্থানীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দসহ আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের গ্রে’ফতার করা হয়েছে। তারা একটি জমি জা’লিয়াতি চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। ওই জমি জালিয়াতির ব্যাপারে অভিযোগকারী ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের মদদ এবং পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরণের জালিয়াতির ঘটনা ঘটে না।

এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও বলেছেন যে, এর পেছনে কারা মদদদাতা এবং কারা প্রভাবশালী তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন এবং এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার মদদে পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ছত্রছায়ায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ দুর্বিনীত হয়ে উঠেছিলেন। তারা এলাকায় নিরঙ্কুশ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

আর এই কারণেই এই সমস্ত স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের পর, তিনি কিছুটা চাপের মুখে পড়েছেন এবং তার কর্তৃত্ব কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যদিও তিনি এলাকায় যাওয়া বন্ধ করেননি। এলাকায় যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এলাকায় তার আগের যে নিরঙ্কুশ অবস্থান ছিল, সে নিরঙ্কুশ অবস্থা এখন কোনভাবেই নেই।

একইভাবে, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। সেখানে দু’র্বৃত্তায়ন এবং দু’র্নীতির অ’ভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, গ্রেফতার করা হয়েছে। সেখানেও আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার নাম উঠেছে, যিনি ইতোমধ্যে ক্ষমতা চ্যুত। ইতোমধ্যেই তার প্রভাব অনেক খর্ব হয়ে গেছে। রাজনীতিতে এখন তিনি অনেকটাই কোণঠাসা অবস্থায় চলে গেছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে এই ধরণের রিপোর্ট আছে যে, এলাকাগুলোতে যারা দুর্বিনীত হয়ে গেছে, যারা দুর্নীতি এবং অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়েছেন, তাদেরকে লালন-পালন এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। স্থানীয়ভাবে যারা দুর্বিনীত ও দুর্বৃত্ত হয়ে উঠেছেন এবং যারা বিভিন্ন অপকর্ম করছেন, তাদেরকে মদদ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রভাবশালীরা।

মন্ত্রী, এমপি বা কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেই তারা এলাকায় একটি আলাদা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। যেখানে তারা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করে তাদের মতো করে তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য সবকিছু করেছেন। আর এ কারণেই এখন এই শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাই এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *