ছেলেকে প্রথম কোরআনের হাফেজ এরপর ক্রিকেটার বানাতে চান ঝর্ণা আক্তার

ক’রোনাভাইরাসের কারণে দেশের ক্রীড়াঙ্গন থমকে দাঁড়ালেও মা ও ছেলের ক্রিকেট খেলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় তা দেশজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছে। মা ও ছেলের এমন ক্রিকেট খেলা এর আগে দেখা যায়নি। তাইতো গত শুক্রবার রাজধানীর পল্টন ময়দানে মা ও ছেলের ক্রিকেট খেলার দৃশ্য নজর কেড়েছে সবার।

শুক্রবার ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পাঞ্জাবি পায়জামা পরিহিত শিশু ছেলেটি বল নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অপর প্রান্তে বোরকা পরিহিত মা ব্যাট করছে। পত্রিকার একজন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

মাদরাসা ছাত্র শেখ ইয়ামিন সিনান (১১) কবি নজরুল ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে আসে। শুক্রবারও সিনানকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণের ক্লাসে নিয়ে এসেছিলেন মা ঝরনা আক্তার। কিন্তু তখনও বন্ধুরা কিংবা প্রশিক্ষক আসেননি। তাই ক্রিকেটপাগল শিশু সিনান মাকে নিয়েই নেট প্র্যাকটিস শুরু করে।

বোরখা পরিহিতা মা ঝরনা আক্তারকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে কিছুক্ষণ বোলিং করে সে। শিশু সিনানের ছুঁড়ে দেওয়া বলের ঘূর্ণিতে ব্যাটসম্যান ঝরনা আক্তার পরাস্ত হলে সাকিব আল হাসানের মতোই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে সে। আর এই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় দেশজুড়ে হৈ চৈ পড়ে যায়।

পল্টন ময়দানে শুক্রবার সকালের ঘটনা প্রায়ই ঘটে ঝর্না ও সিনানের জীবনে। ঝর্না খুব আগ্রহ নিয়ে গণমাধ্যমে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমরা মা-ছেলে বাসার সামনে সব সময় ক্রিকেট খেলতাম।’ আর গতকালের ঘটনা মনে করে বলেন, ‘এখানে স্যার বলেছিলেন, জুমাআর নামাজ শেষে আসার জন্য। কিন্তু বাচ্চার তর সইছিল না। এজন্য সে চলে আসে আমাকে নিয়ে।

“ওখানে বেসবল খেলা চলছিল (পল্টন ময়দানে চলছিল ওয়ালটন চতুর্থ জাতীয় মহিলা বেসবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল)। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর আমরা ক্রিকেটের অনুশীলনের জোনে চলে আসি। জায়গাটা ফাঁকা থাকায় ছেলে বলে, ‘চলো মা আমরা খেলি। তোমাকে আউট করতে পারলে আমি ব্যাটিং। আমাকে আউট করলে তুমি ব্যাটিং।’ এভাবেই মা-ছেলে ক্রিকেটানন্দে মেতে উঠি।

আরামবাগের এক মাদরাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া সানিনকে নিয়ে বড় স্বপ্ন মায়ের। বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে দুইটা স্বপ্ন দেখি। প্রথম স্বপ্ন আমার ছেলে কোরআনে হাফেজ হবে। দ্বিতীয়, আমার ছেলে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় হবে। একদিন বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলবে।

সিনানদের পরিবার চারজনের। বাবা ও মা বাদে রয়েছে বড় বোন। ছেলেকে মাঠে নিয়ে আসার পাশাপাশি মাকে সামলাতে হয় সংসার। এজন্য করতে হয় অক্লান্ত পরিশ্রম। তবে পরিশ্রমের কোনো কষ্ট নেই বললেন মা ঝর্ণা, ‘মাঠে আসতে আমার অনেক কষ্ট হয়। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার পর আবার ছেলের ক্রিকেট খেলা। সংসারও আছে। তবুও আমার কোনো কষ্ট নেই। মা’রা সব পারেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*