টাইগারদের পুরোনো হোড কোচকে আবারও ফিরাচ্ছেন বিসিবি

টাইগারদের বদলে দিয়েছিলো যে কোচ তাকে আবারও ফিরিয়ে আনছেন বিসিবি। বিশেষ করে মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, মাহদুউল্লাহ, তামিম এদের ব্যাটিং উন্নতির মুল করিগর ছিলেন তিনি। সেই কোচ আর কেউ নয় তিনি হলেন জেমি সিডন্স।

অস্ট্রেলিয়ান হলেও বাংলাদেশের জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন দারুণভাবে। ঢাকার রাস্তায় সস্ত্রীক রিকশায় ঘোরা, ধূপখোলা মাঠে গিয়ে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা, তাঁর ন্যাড়া মাথা নিয়ে গুলশানের দোকানিদের আগ্রহ—সবকিছুতেই খুঁজে পেতেন আনন্দ।

অথচ সেই জেমি সিডন্স বাংলাদেশে থাকতে চেয়েও পারেনি! ২০০৭-এর অক্টোবরে দায়িত্ব নিয়ে ২০১১-এর এপ্রিল পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে। সিডন্স থাকতে চেয়েছিলেন এরপরও। কিন্তু তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাড়াতে রাজি হয়নি বিসিবি।

এই অস্ট্রেলিয়ানকে নিয়ে সমালোচনা ছিল, তিনি নাকি জাতীয় দলে নিজের পছন্দের খেলোয়াড়ের প্রতি বেশি উদার এবং অপছন্দের খেলোয়াড়দের প্রতি কঠোর। বোর্ড কর্মকর্তাদের মুখের ওপর অপ্রিয় সত্য বলে দেওয়ার ‘বদ–অভ্যাস’টাও ছিল প্রবলভাবে।

যে কোচ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মানসিকতা বদলে দিয়েছিলেন, তিনিই তাই হয়ে গেলেন ভীষণ অপছন্দের। সেটা এতটাই যে বিদায়ের বছর দুয়েক পর ব্যাটিং কোচ হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চাইলেও বিসিবির কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া দলের সাবেক এই সহকারী কোচ।

এক দশক পর এসে তার সে চাওয়া পূরণ হতে পারে। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন তিনি। বিসিবির পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে আছেন এ অস্ট্রেলিয়ান। একজন স্পিন কোচও নিয়োগ দিতে যাচ্ছে বোর্ড।

সাকিবদের স্পিন কোচ করা হতে পারে রঙ্গনা হেরাথকে।শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি এ স্পিনার পছন্দের শীর্ষে। বিসিবির একটি সূত্র জানায়, সিডন্স ও হেরাথের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে হেরাথের ব্যাপারে সর্বসম্মতি থাকলেও সিডন্সকে নিয়ে কারও কারও আপত্তি আছে।

সিডন্স পরীক্ষিত কোচ। তার সময়েই বড় দলের বিপক্ষে দেশে-বিদেশে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছেন সাকিবরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ জেতার কৃতিত্ব ঐতিহাসিক।

একদিনের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তাদের মাটিতে। যদিও ২০০৯ ও ২০১০ সালের টি২০ বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি দল। ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেনি টাইগাররা। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসকে হারালেও উইন্ডিজের কাছে ৫৮ আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৮ রানে অলআউট হয়েছিল ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপে।

তবে সিডন্সের চার বছরের কোচিংয়ে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। তামিম, সাকিব, মুশফিকদের ব্যাটিং নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন তিনি। তামিম, মাশরাফিরা সেটা স্বীকারও করেন। ওয়ানডে অধিনায়ক তামিমের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ রয়েছে তার।

সিডন্সকে ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিসিবির একজন পরিচালক বলেন, ‘জেমির সঙ্গে কথা হয়েছে। তালিকায় সবার ওপরেও আছে সে। নিয়োগের বিষয়টি হয়তো চূড়ান্ত করা হয়নি।’ জন লুইসকে খণ্ডকালীন নিয়োগ দিয়ে ভেতরে ভেতরে ব্যাটিং কোচ খুঁজছিল বিসিবি।

বিশেষ করে জনের কাজ পছন্দ না হওয়ায় প্রক্রিয়াটা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে চুক্তিভিত্তিক ব্যাটিং কোচ ছিলেন তিনি। লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে ইংল্যান্ড ফিরে গেছেন জন।

জাতীয় দল সূত্রে জানা গেছে, জনের ওপর বিরক্ত ছিলেন ক্রিকেটাররা। জাতীয় দল-সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, জন চরম ফাঁকি দিয়েছেন। বিদেশে কোনো কাজই করতেন না। মিরপুরে ফিল্ডিং করাতেন।ব্যাটসম্যানদের নিয়ে খুব একটা কাজ করেননি তিনি। মূলত স্থায়ী ব্যাটিং কোচ না পাওয়ায় আপৎকালীন কাজ চালানো হয়েছে জনকে দিয়ে।

টাইগারদের জিম্বাবুয়ে সফরে দেখা যেতে পারে নতুন ব্যাটিং কোচকে।স্পিন কোচ হিসেবে রঙ্গনা হেরাথ অবশ্য অনভিজ্ঞ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও এখনও ঘরোয়া লিগে খেলেন ৪৩ বছর বয়সী বাঁহাতি এই স্পিনার। গত মার্চেও লিগ খেলেছেন।

রঙ্গনার কোচিং অভিজ্ঞতা না থাকলেও বোলার হিসেবে তিনি উঁচু মানের। ৯৪ টেস্ট খেলে ৪৩৩ উইকেট শিকার তার। ওয়ানডেতে ৭৪ আর টি২০-তে ১৮ উইকেট নিয়েছেন। তাকে নিয়োগ দেওয়া হলে নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টরির স্থলাভিষিক্ত হবেন।

বিসিবি কর্মকর্তা জানান, “হেরাথকে বছরে ২০০ দিন কাজের শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হেরাথ চান, ১২০ দিন কাজ করতে। এ নিয়ে বোর্ড ও হেরাথের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে।” তবে বিসিবির অন্য একটি সূত্র বলছে, এ দুইজনকে বাছাই করা হলেও পরিচালকদের মধ্যে মতদ্বৈধতা রয়েছে, যেটা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অবশ্য বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান জানান, দু’জন না হলেও অন্তত একজন নিয়োগ পাবেন। আর সেটা হেরাথই হবেন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.