টানেলের ভেতর বিমান চালিয়ে ভয়ংকর রেকর্ড করলেন পাইলট! (ভিডিও)

প্রথমবারের মতো টানেলে বিমান চালিয়ে রেকর্ড গড়লেন ইতালির এক পাইলট। দারিও কোস্তা নামের দুঃসাহসী এই পাইলট ইস্তাম্বুলের কাছে সড়কের দুটি টানেলের ভেতর দিয়ে ১ হাজার ৫২০ মিটার পথ অতিক্রম করে আকাশে উড়ে যান।বিমান আকাশে উড়বে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু এখানে বিমান চলেছে রাস্তার টানেলের ভেতর দিয়ে।

দুঃসাহসী এই কাজটি করে তিনি গড়েছেন বিশ্ব রেকর্ড। তুরস্কের ইস্তাম্বুলের কাছে সড়কের সরু দুটি টানেলে শ্বাসরুদ্ধকর বিমান চালিয়ে ইতিহাসে নাম লেখালেন ইতালির পাইলট দারিও কোস্তা। তিনি বলেন, আমার জীবনের সেরা আবেগআপ্লুত মুহূর্তের মধ্যে এটি অন্যতম। এক বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি কখনোই এত সরু রাস্তায় বিমান উড্ডয়ন করিনি। জানতাম না বেঁচে ফিরে আসতে পারব কি না।

ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানটি শেষ করতে পারায় নিজেকে খুব হালকা লাগছে। প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে ‘জিভকো এজ ৫৪০’ রেসিং বিমান দিয়ে দারিও দুঃসাহসী এই অভিযানটি চালান। ঘণ্টায় ২৪৫ কিলোমিটার গতিবেগে মাত্র ৪৩ দশমিক ৪৪ সেকেন্ডে তিনি টানেল দুটি অতিক্রম করেন। প্রথম টানেলের দৈর্ঘ্য ৩৬০ মিটার আর দ্বিতীয় টানেলটির দৈর্ঘ্য ১১৬০ মিটার।

অর্থাৎ দারিও সড়কের দুটি টানেলের ভেতর দিয়ে মোট ১ হাজার ৫২০ মিটার পথ অতিক্রম করে আকাশে উড়ে যান। এমন দুঃসাহসী না হলেও বিমান নিয়ে আরেকটি রেকর্ড আছে ভারতের মৈত্রী নামের এক কিশোরীর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উপযুক্ত ট্রেনিং নিয়ে ফিরেছেন তিনি। এর পরই রেকর্ড।

১৯ বছরের মেয়ে মৈত্রী পটেল এখন দেশের সবচেয়ে কমবয়সী পাইলট। মাত্র ১১ মাসের ট্রেনিংয়ের পরই পেশায় গুজরাত সুরাতের বাসিন্দা, পেশায় কৃষক কান্তি পটেলের মেয়ে মৈত্রী লাইসেন্স পেয়েছেন বাণিজ্যিক বিমান ওড়ানোর। আমেরিকা থেকে সুরাতে পৌঁছে নিউজ ১৮-এর মুখোমুখি হয়েছিলেন মৈত্রী।

ছোটবেলা থেকেই মৈত্রী স্বপ্ন দেখতেন বিমান ওড়ানোর। কৃষক-কন্যার এই স্বপ্নের ওড়ানের ট্রেনিং শুরু হয়েছিল দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা পাস করার পরই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যিক বিমান ওড়ানোর ট্রেনিং নিতে চলে যান মৈত্রী। তার বাবা পেশায় একজন কৃষক এবং সুরাত মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের একজন কর্মী। সাধারণত ১৮ মাস লাগে এই ট্রেনিং শেষ করে পাইলট হওয়ার জন্য।

কিন্তু মৈত্রীর দক্ষতায় তিনি মাত্র ১১ মাসেই কোর্স করে পাইলট হওয়ার লাইসেন্স পেয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লাইসেন্স পাওয়ার পর বাবাকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার পর প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ে নিজে বিমান চালিয়ে বাবার স্বপ্নপূরণ করেছেন মৈত্রী। তার গর্বিত মা রেখা পটেল বলেছেন, পরিবার মৈত্রীর জন্য এত টাই খুশি যে তাকে ‘শ্রাবণ’ নাম দেওয়া হয়েছে।

মেয়ের জন্য গর্বিত বাবা কান্তি পটেলের বক্তব্য, ‘পাইলট মেয়ের বিমানে চড়ে ওড়ার খুব ইচ্ছে ছিল আমাদের। মৈত্রী সেই স্বপ্নপূরণ করেছে। একজন বাবা আর কী-ই বা চাইতে পারে। এবার ভারতীয় স্ট্যানডার্ড ট্রেনিং নিতে হবে মৈত্রীকে। তবেই ভারতে বিমান চালানোর লাইসেন্স পাবে মৈত্রী।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.