টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের সন্ধানে বিসিবি!

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন। ক্রিকেট বোর্ড কিংবা মাহমুদউল্লাহ’র কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও বাস্তবতা এমনটাই। ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরমহলের ব্যাপারটি ওপেন সিক্রেট। কারণ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভরাডুবিতে ক্ষুব্ধ বোর্ড।

যে কারণে পুরো ম্যানেজমেন্ট একরকম ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনায় বিসিবি। এই যেমন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো নামকে ওয়াস্তে আছেন তার আসনে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মূল ভূমিকায় টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন এখন সর্বেসর্বা। ঠিক তেমনি বিশ্ব মঞ্চে দলের ব্যার্থতা এবং মাহমুদউল্লাহ’র ক্যাপ্টেন্সি হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ।

স্কটল্যান্ডের কাছে হার। প্রেস কনফারেন্সে বোর্ড সভাপতির মন্তব্যে পাল্টা জবাব দেয়ায় অসন্তোষ বোর্ড কর্তারা। তাই তো, দিক পাল হারা হয়ে দিশেহারা ক্রিকেট বোর্ড। এমন অবস্থায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন,পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে মাহমুদউল্লাহ’র স্থলাভিষিক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তামিম দায়িত্ব নিতে চান নি। বরং বিনয়ের সাথে টি-টোয়েন্টিতে তরুণ কোন ক্রিকেটারকে অধিনায়ক করার কথা বলেছে বোর্ড সভাপতিকে।

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে মাহমুদউল্লাহ তখনো দুবাইয়ে ছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন জল অনেক ঘোলা হয়েছে। বিসিবি সভাপতির বাসায় ঐ বৈঠকের খবর গেছে মাহমুদউল্লাহ’র কানে। দলের হার, মানসিক বিপর্যয় আর বিসিবি বিকল্প ভাবনা। এসব মিলে মাহমুদউল্লাহ’ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্বে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন। সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় একরকম হারানো দায়িত্ব আবারও বয়ে বেড়াতে চাননি মাহমুদউল্লাহ।

কিন্তু, মনের বিরুদ্ধে গিয়েও মানিয়ে নিতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। তার ছাপ পাওয়া গেছে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। মাঠে যেন মাহমুদউল্লাহ’র দেহ আছে, প্রাণ নেই। এমন বলতে শোনা গেছে অনেকের কন্ঠ। তবে, শেষ টি-টোয়েন্টিতে যে জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছিলো তার রুপকার ছিলেন ঐ মাহমুদউল্লাহ’ই। পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই সিকিভাগ পাওয়া গিয়েছিলো মাহমুদউল্লাহকে।

তবে, পরিবেশ পরিস্থিতি এমন যে ক্রিকেট বোর্ড ও মাহমুদউল্লাহ দুই পক্ষেই এক মোহনায়। মাহমুদউল্লাহ দায়িত্ব ছাড়তে চান আর বোর্ড দায়িত্ব অন্য কেউকে দিতে চায়। বাংলাদেশের পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজ ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ততোদিনে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে মোট চারটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এই সময়ে ক্রিকেট পাড়ায় কতো শত গল্প রচনা হবে। হবে কতো প্রশ্নের জন্ম।

কিন্তু, আবারও নতুন আলোচনা সমালোচনার মধ্যে দিয়ে আসছে ফেব্রুয়ারিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেই টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক নির্বাচন করতে চায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেক্ষেত্রে তামিম ইকবাল এই ফরম্যাটের অধিনায়ক হতে না চাওয়ায়, সাকিব আলোচনার শীর্ষ্যে। কিন্তু, সাকিব ক্যারিয়ারের বাকি সময়ে আর অধিনায়কের দায়িত্ব আসতে চাইবেন কিনা সে ব্যাপারে নানা জনের নানা কথা রয়ে যায়।

তবে, বোর্ডের এক পক্ষ আবার তামিমের সুরে। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবিও চায় ৫/৬ বছর হলো বাংলাদেশের হয়ে খেলছে এমন কোন তরুণ ক্রিকেটার হোক টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক। সেক্ষেত্রে দারুণ ভাবে আলোচনায় আছেন ফার্স্ট বোলার তাসকিন আহমেদের নাম। তাসকিনের অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা না থাকলেও, দলের সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব, তামিম,রিয়াদ, মুশফিকদের কাছে তাসকিন খুবই পছন্দের। এছাড়াও সমসাময়িক অন্য ক্রিকেটারদের সাথেও, তাসকিনের আছে বেশ সখ্যতা।

তবে, হেলায় ফেলানো যাবেনা আরেক ক্রিকেটার নূরুল হাসান সোহানকে।উইকেট কিপার সোহান’ও আছেন বেশ আলোচনায়। তবে, এসব আলোচনা বিসিবির টেবিলে আপাতত ভাবনায়। কারণ পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর বোর্ড সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কিন্তু, এটা ঠিক নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের সন্ধানে বিসিবি। বোর্ডের দায়িত্বশীল একব্যাক্তি ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন।

টেস্ট থেকে অবসর নেয়া মাহমুদউল্লাহ’র কি হবে। নেতৃত্ব হারালে কিংবা ছাড়লে তিনি কি এক্কেবারে বাদ পরবেন এই ফরম্যাট থেকে। শুধু কি ওয়ানডে খেলে যাবেন সাইলেন্ট কিলার। জানা গেছে, নেতৃত্ব না থাকলেও, টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সাকিবের পর সিনিয়রদের মধ্যে রিয়াদ এখনো অপরিহার্য।

তাই অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ দলের পরিকল্পনায় থাকবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পাওয়ার হিটারদের মধ্যে অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ। ১১৩ টি-টোয়েন্টিতে প্রায় দুই হাজার রান ষ্টাইক রেট একশো কুড়ি প্রায়। এসব বিবেচনায় ফিনিশিংয়ে মাহমুদউল্লাহ এই ফরম্যাটে দারুণ ব্যাটার। তাই অন্তত অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ পর্যন্ত রিয়াদের ব্যাটের সার্ভিস চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

অধিনায়কেট দায়িত্বে না থাকলেও বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সবচেয়ে বেশি ৩৮ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১৫টি ম্যাচে জিতিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ’র অধ্যায়ের পর বোর্ড খুব করে চাইছে তাসকিন কিংবা সোহানদের মতো তরুণদের কাঁধে ভর রাখতে। তবে, আপাতত দুই মাস এই ভাবনা বিসিবি ফ্রিজ বন্ধী করে রাখছে। কিন্তু, দুর্বিন দৃষ্টি ঠিকই থাকছে নয়া টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের সন্ধানে…

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.