টেস্ট থেকে অবসর নিয়ে যা বললেন মাহমুদউল্লাহ

গত জুলাইতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করেই মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন। অবশেষে বুধবার রাতে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ টেস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়ে ফেলেছেন।

এ বছরের জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে রিয়াদকে হুট করে দলে ডাকা হয়। প্রথমে তাকে দলে রাখা হয়নি, এ নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত নির্বাচকরা টেস্ট স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেন রিয়াদকে।১৬ মাস পর টেস্টে ফিরে হারারেতে ১৫০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পরই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন রিয়াদ।

সেই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল বুধবার।টেস্ট থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণায় রিয়াদ বলেন, ‘যে ফরম্যাট এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলছি তা ছেড়ে দেওয়া মোটেও সহজ নয়। আমি সবসময় ভালো অবস্থানে থেকে শেষ করতে চেয়েছিলাম এবং আমি মনে করি টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানার এটা সঠিক সময়।’

নির্বাচকরা রিয়াদকে টেস্ট দলে ব্রাত্য করে তুললেও বিসিবি সভাপতি বরাবরই রিয়াদকে টেস্টে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। বিদায়ী বার্তায় রিয়াদ ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে।

রিয়াদ আরও বলেন, ‘আমি যখন টেস্ট দলে ফিরেছিলাম তখন পাশে থাকায় বিসিবি সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাকে সমর্থন করায় ও আমার সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখায় সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফদের ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারাটা অনেক সম্মান ও গৌরবের।’

টেস্ট থেকে অবসর নিলেও রিয়াদ পুরোদমে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।আর আগে, বিবৃতিতে তিনি বিসিবি সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া মাহমুদউল্লাহ সতীর্থ ও সাপোর্ট স্টাফদেরও ধন্যবাদ জানান।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ গত জুন-জুলাইয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচের শেষ দিন তাকে গার্ড অব অনারও দিয়েছিল।কিন্তু দলের মধ্যে সবাই জানলেও এতদিন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। মিডিয়াতেও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ চলাকালে মাহমুদউল্লাহকে টেস্ট সিরিজে খেলার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, কখনো আর টেস্টে ফিরবেন না।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মাহমুদউল্লাহর হঠাৎ অবসর নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন রিয়াদ টেস্ট থেকে অবসর নিতে দেবেন না। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাটা দিয়েই দিলেন। সাদা পোশাকের ক্রিকেট তিনি আর খেলবেন না।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.