ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ হওয়া ১০ জনপ্রিয় ক্রিকেটার

মাদকের কোরাল থাবা গ্রাস করেছে সর্বত্র। সেই ভয়াবহতা থেকে বাদ যায়নি ক্রিকেটও। বহু জনপ্রিয় ক্রিকেটার মাদকের কারণে হয়েছেন নিষিদ্ধ, ধ্বংস হয়েছে বহু মূল্যবান প্রতিভা। আজ আমরা তেমনই দশ ক্রিকেটারের গল্প করবো, মাদকের কারণে যারা পড়েছেন নিষেধাজ্ঞার কবলে। চলুন দেখে নেয়া যাক কে কে আছেন এই তালিকায়ঃ

১. উপুল থারাঙ্গা, শ্রীলঙ্কা শ্রীলঙ্কার সাবেক ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ১৪ বছর ধরে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপকে সমৃদ্ধ করে এসেছে। ৩০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা থারাঙ্গা ২০১১ সালের বিশ্বকাপের সময় ডোপ টেস্টে পজিটিভ হন, তৎক্ষনাৎ তাকে তিন মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বরখাস্ত করা হয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।

২. আব্দুর রহমান, পাকিস্তান সাবেক পাকিস্তানী বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রহমানও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন মাদকের জন্য। ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের ডোমাস্টিক লীগে সামারসেটের হয়ে খেলার সময় ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হলে আইসিসি কতৃক তাকে ১২ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। তিনি পরবর্তীতে পিসিবি, ইসিবি ও আইসিসির কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের আবেদন করলেও সেটা গ্রহণযোগ্য হয়নি।

৩. প্রদীপ সাঙ্গওয়ান, ভারত ভারতের বাঁহাতি মিডিয়াম পেসার প্রদীপ সাঙ্গওয়ান জাতীয় দলে না খেললেও আইপিএলের জনপ্রিয় ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি দিল্লি ও গুজরাটের হয়ে আইপিএলে খেলেছিলেন। ২০১৩ সালে আইপিএল চলাকালীন সময়ে তিনি ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হলে বিসিসিআই তাকে ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। পরবর্তীতে তার আর ক্রিকেটে ফেরা হয়ে ওঠেনি।

৪. মোহাম্মদ আসিফ, পাকিস্তান বিশ্বের জনপ্রিয় সুইং বোলারদের মধ্যে একজন হলেন পাকিস্তানের সাবেক পেসার মোহাম্মদ আসিফ। নানা কেলেঙ্কারিতে তিনি তার ক্যারিয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে পারেননি। ২০০৬ সালে ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন আসিফ। তাকে সেই অপরাধে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো।

৫. শোয়েব আখতার, পাকিস্তান বিশ্বের সবচাইতে দ্রুতগতির বোলার ছিলেন শোয়েব আখতার। তার বোলিংয়ে নাস্তানাবুদ হতো অনেক বাঘা বাঘা ক্রিকেটার। সেই শোয়েব আখতারও ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন ২০০৬ সালে। এরপরে কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন আখতার। ২০১১ বিশ্বকাপ খেলে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছিলেন এই পাকিস্তানি পেসার।

৬. ইউসুফ পাঠান, ভারত ভারতের একসময়ের হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান ছিলেন ইউসুফ পাঠান। ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখান তিনি। আইপিএলেও তিনি মারকুটে ব্যাটিংয়ের জন্য বিখ্যাত। ২০১৮ সালে তিনিও ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন। এরপরে পাঁচ মাসের নিষেধাজ্ঞার পরে নিজের জাতীয় দলের ক্যারিয়ার আর দীর্ঘায়িত করতে পারেননি ইউসুফ। থেমে যায় তার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার।

৭. আন্দ্রে রাসেল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেলকে কে না চেনে। তার মারকুটে ব্যাটিং এর বহু চমক দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু সেই রাসেলও ডোপ কেলেঙ্কারিতে ফেঁসেছিলেন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোপ পজেটিভ প্রমাণিত হয়ে এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন তিনি। পরে অবশ্য দূর্দান্তভাবে আরও শক্তি সঞ্চয় করে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন রাসেল। এখন অব্দি তিনি তার মারকুটে মেজাজ দেখিয়েই যাচ্ছেন।

৮. পৃথ্বী শাহ, ভারত ভারতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ সেনসেশন পৃথ্বী শাহ। তিনিও পড়েছিলেন ডোপের কেলেঙ্কারিতে। ২০১৯ এর নভেম্বরে ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন তিনি। এরপরে একবছরের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন এই তরুণ তুর্কী।

৯. এলেক্স হেলস, ইংল্যান্ড ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান এলেক্স হেলস ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হন। তাই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও তাকে বিশ্বকাপ খেলতে দেয়া হয়নি। এরপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও এখনও দলের বাইরেই আছেন হেলস।

১০. শেন ওয়ার্ন, অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের সেরা লেগস্পিনার (মতান্তরে) হিসেবে শেন ওয়ার্নকে বিবেচনা করা হয়। তার বোলিং ঘূর্ণিতে বোকা বনেছেন বহু জনপ্রিয় ব্যাটসম্যান। ১৯৯৯ বিশ্বকাপেও তিনি অনবদ্য পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। কিন্তু এরপরের বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকলেও ডোপ টেস্টে পজিটিভ প্রমাণিত হওয়ায় কোনো ম্যাচ না খেলেই ফেরত যেতে হয় ওয়ার্নকে। ডোপ কেলেঙ্কারিতে তিনিও কালিমা লাগানো ক্রিকেটার।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.