ঢাকার মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে যা বললেন বিসিবি সিইও

কুমিল্লা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটের থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই ঢাকার। বিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটের ৪৮ ঘণ্টা আগে হঠাৎই মালিকাশূন্য হয়ে পড়ে ঢাকা। দলটির সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে যাদের ধরা হয়েছিল সেই রুপা ও মার্ন গ্রুপ কনসোর্টিয়াম বিসিবির বেঁধে দেয়া শর্ত পূরণ করতে না পারায় মালিকানা স্বত্ব হারায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিসিবি এগিয়ে আসে এবং তাদের নিজস্ব অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে প্লেয়ার্স ড্রাফটে অংশ নেয় ঢাকা।

জাতীয় দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার, বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস এবং অটো চয়েজ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্লেয়ার্স ড্রাফটের চেয়ারে বসে দল সাজান। শুরুতে তামিম এবং তিন নম্বর কলে মাশরাফিকে নিয়ে একটা সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দলও সাজায় ঢাকা। অতিবড় সমালোচকও মানছেন, শেষ মুহূর্তে বিসিবির পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানে বেশ ভালো দল হয়েছে ঢাকার।

বিসিবির অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানে ভালো দল হলেও বিপিএল প্লেয়ার্স ড্রাফটের পর সদস্য সচিব ও বিসিবি পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক মিডিয়াকে জানিয়ে দেন, তারা (বিসিবি) সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন ভালো দল গড়তে। অর্থের দিকে তাকানো হয়নি। যাকে যেখানে দরকার, যে পজিশনে যাকে নিলে ভালো হবে, তাই করা হয়েছে।

সে কারণেই ‘পঞ্চপান্ডবের তিন পান্ডব- মাশরাফি, তামিম এবং রিয়াদে’র ঠিকানা হয়েছে ঢাকায়। সঙ্গে দেশি-বিদেশি মিলে অনেক তারকার সমাহার হয়েছে। কিন্তু তারপরও আছে কিছু প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত কী বিসিবির দল হয়েই এবারের বিপিএল খেলবে ঢাকা? সেটা কেমন দেখাবে? বাকি পাঁচ দলের মালিক বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি তথা কর্পোরেট হাউজ অথচ ঢাকার মালিক খোদ বিসিবি।

এরই মধ্যে চারদিকে সমালোচনার ঝড়। নানা তীর্যক মন্তব্যও ছুটে আসছে, ‘আরে ঢাকা তো কমিটির দল।’ এসব কটূক্তি কম-বেশি বোর্ড কর্মকর্তাদের কানেও যাচ্ছে। তাই তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন ঢাকার মালিকানা বদলের। প্লেয়ার্স ড্রাফটের দিন জাগো নিউজসহ মিডিয়া হাউজগুলোর সাথে আলাপে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিকও জানিয়েছেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি মালিকানা বদলের।

যদি ভালো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওয়া যায়, তাহলে ঢাকার মালিকানা তাদের হাতেই দেয়া হবে। আর তা যদি নাও মেলে তাহলে অন্তত একটি স্পন্সর জোগাড়ের চেষ্টা চলছে।’ আজ বৃহস্পতিবার বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজনের মুখেও সে একই কথা। তিনিও জানিয়ে দিলেন, ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি ও স্পন্সর খোঁজা হচ্ছে। পেলেই তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

বিসিবি সিইওর কথা, ‘আমি আবারও পরিষ্কার করছি, দলটা বিসিবির নয়। কোনো একটা কারণে দলটির মালিকানা বা স্পন্সর এখনো হয়নি। আমি আশা করছি, খুব শিগগির যদি আমরা দলটির কোনো স্পন্সর বা ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রস্তাব পাই সেটা হস্তান্তর করে দেব। এটা ফ্র্যাঞ্চাইজির বিষয় নয়, বোর্ডের বিষয়। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে কাকে দেবে বা কোনো স্পন্সর পাবে।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.