তাদের দল থাকলেও যোগ দিতে চান বিএনপিতে

তারা এখনও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক। তাদের প্রত্যেকেরই দল আছে। তবে দলীয় আদর্শ ও নীতি প্রায় অভিন্ন হওয়ায় বিএনপিতে যোগ দিয়েই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে চাইছেন তারা। সেক্ষেত্রে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হলে তারা যেকোনও সময় দলটিতে যোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

আগ্রহী এই নেতারা হলেন—এলডিপি (একাংশ) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। যোগ দেওয়ায় আগ্রহীদের মধ্যে আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকনের নামও। সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদীয় আসনের রাজনীতিকে সামনে রেখে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনতে চান তারা।

এক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইতিবাচক অবস্থান থাকার পাশাপাশি দলীয়ভাবে মর্যাদা প্রাপ্তির বিষয়টিও যুক্ত রয়েছে বলে মনে করেন তারা। ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) একটি সূত্র জানায়, দলের মধ্যে দুই ধরনের চিন্তা রয়েছে।

কেউ কেউ মনে করছেন, অবস্থান স্পষ্ট হলে দলের সাত-আট জন সাবেক সংসদ সদস্য মূল জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে চান। আর মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন চাইছেন বিএনপিতে যোগ দিতে। তিনি কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন বলেন, ‘এ ধরনের আলোচনা দলের কারও সঙ্গে আমার হয়নি। এমন কোনও উদ্যোগ দলে আছে কিনা, তাও জানা নেই।’ বিএনপিতে নিজের যোগদান প্রসঙ্গে লিংকন বলেন, ‘এটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।

রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। এখন তো বিএনপিও যোগদান করাচ্ছে না। এখানে অনেক বিষয় আছে।’ সে বিষয়গুলো কী? এমন প্রশ্নে আহসান হাবিব বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। যোগ দিলেই তো আর পদে বসিয়ে দেবে না।

আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি অনেক আগে, যখন হয়তো এই দলের এখনকার বড় নেতাও তরুণ ছিলেন। আমি সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করে চলতে চাই। নীতি-নৈতিকতার ব্যাপারে জাপা থেকে চলে এসেছি। আমি যে রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, সে রাজনীতিতে আছি। এটা রক্ষা করার চেষ্টা করবো।’

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলেও নীতি ও আদর্শের দিক দিয়ে এলডিপির (একাংশ) নেতাদের কোনও পার্থক্য নেই। আর দলের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম নিয়মিত তার প্রোগ্রাম, বিবৃতিগুলোয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করে থাকেন, তাকে উদ্দেশ্য করে রাজনৈতিক বক্তব্যও দেন।

ইতোমধ্যে তার সংসদীয় এলাকা লক্ষ্মীপুর-১ আসনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সেলিম। এলডিপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ একমাত্র বিএনপি।

সেক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে এক হয়ে বিএনপির সঙ্গে থাকাই রাজনৈতিকভাবে মঙ্গলজনক। দল চালাতে যে অর্থ, মেধা ও শ্রম ব্যয় হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপিতে তা কাজে লাগানোই রাজনৈতিকভাবে সুফল আনবে।’ এ প্রসঙ্গে দলের অন্যতম একজন উদ্যোক্তা বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারছে না।

পরিস্থিতি এখন আওয়ামী লীগ বনাম অ্যান্টি আওয়ামী লীগ মানে বিএনপিকে বোঝায়। নিজেরা দল চালাতে যে অর্থ, পরিশ্রম ও সময়ের বিনিয়োগ হয়, সেক্ষেত্রে বিএনপির হাতকেই শক্তিশালী করা রাজনৈতিকভাবে জরুরি। আমি ইতিবাচক চিন্তা করছি। বাকিটা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।

আমার ক্ষেত্রে যদি ডাক আসে বা সুযোগ হয়, তাহলে আমি ইতিবাচক থাকবো।’ জানতে চাইলে এলডিপি মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা এখনও বিএনপির জোটে আছি। মূল নেতৃত্বের আস্থাভাজন ও সহযোদ্ধা হিসেবে জোটে আছি। যদি কখনও বিএনপি আহ্বান জানায় বা সুযোগ আসে—সেক্ষেত্রে আমি ইতিবাচক।’

২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর বিএনপি-জোটে যোগ দেয় সৈয়দ এহসানুল হুদার নেতৃত্বাধীন জাতীয় দল। জাতীয়তাবাদী ঘরানার প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজীবী সৈয়দ সিরাজুল হুদার ছেলে সৈয়দ এহসানুল হুদার নেতৃত্বাধীন জাতীয় দলের সভা-সেমিনার কেন্দ্রিক সক্রিয়তা আছে। তার সংসদীয় আসন কিশোরগঞ্জ-৫।

আলাদা দল পরিচালনা করলেও সৈয়দ এহসানুল হুদা বিএনপিতে যোগ দিতে আগ্রহী। এ ব্যাপারে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘আমরা জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করি এবং বিশ্বাস করি। এই আদর্শের ধারক-বাহক বিএনপি। আমার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক—রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত ঘটেছে ছাত্রদল করার মাধ্যমে।

এখন জোটে থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সাড়া আসলে এবং উপযুক্ত-যথাযথ সম্মান, মর্যাদা পেলে বিএনপিতে এক হওয়ার ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জোটে যোগ দিলেও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুরে একটি সংসদীয় আসন শূন্য হলে ‘পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ’কে বিএনপিতে একীভূত করেন দলটির উদ্যোক্তা রিটা রহমান।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.