তারেককে মুরগি না মে’রে ফেলার পরামর্শ খালেদা জিয়ার!

দীর্ঘদিন পর গতকাল লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার টেলিআলাপ হয়েছে। মা-ছেলের এই টেলিআলাপ ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে হয় বলে বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্র এবং একাধিক বিএনপি নেতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, গতকাল বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সভায় লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দেন তারেক জিয়া। এই সভার আগের দিন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে তিনি আলাপচারিতা করেন। সেখানে তিনি নিজেই তার মায়ের সঙ্গে টেলিআলাপের কথা জানান এবং তার মায়ের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ বিবরণও তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছে ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, তারেকের সঙ্গে বিকেল পাঁচটা থেকে সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত বেগম জিয়ার টেলিফোন আলাপ হয়েছে এবং এই সময়ে তারেক জিয়া মূলত বিএনপির চারটি শূন্য আসনে মনোনয়ন এবং কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। একইসাথে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ এবং অন্যান্য কমিটিগুলো করার ব্যাপারে তার ভাবনাচিন্তা এবং মায়ের পরামর্শ শুনতে চান।

কিন্তু বেগম জিয়া এসব পরামর্শের চেয়ে তার নাতি জাইমা রহমান কেমন আছে, তার পুত্রবধু কেমন আছে ইত্যাদি আলোচনায় আগ্রহী ছিলেন এবং লন্ডনের এখনকার অবস্থা কী, করোনায় সেখানের চিকিৎসা ব্যবস্থার কী হাল ইত্যাদি তথ্য জানতে চান। বিএনপির এই উপনির্বাচনে যাওয়া এবং স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তারেককে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া সেই পুরনো সোনার ডিম পাড়া মুরুগির গল্পটি তার পুত্রকে আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেন। যে গল্পে বলা হয়েছে যে, একটি মুরগি সোনার ডিম পাড়ত, একদিন লোভী মুরগির মালিক সবগুলো সোনার ডিম একসঙ্গে পাওয়ার আশায় মুরগিটিকে জ’বাই করে। তখন মুরগির সোনার ডিম দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

বেগম খালেদা জিয়া তারেককে বলেন যে, বিএনপি হলো সোনার ডিম পাড়ার মতোই একটি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি সংগঠনটাকে টিকিয়ে রাখাই মূল কথা। বিএনপি যদি সংগঠন হিসেবে টিকে না থাকে তাহলে তারাও অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বেন।

তাই তারেক যেন সোনার ডিম পাড়া মুরগিকে মে’রে ফে’লার মতো বিএনপিকেও মে’রে না ফেলেন। বিএনপি যদি না থাকে তাহলে জিয়া পরিবারেরও অস্তিত্ব থাকবে না। বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য বিএনপির মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তারেক জিয়াও এই বক্তব্যের পর নিশ্চুপ ছিলেন বলেও একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ্য যে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপির সংসদে যাওয়া, মহিলা আসনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া এবং সংসদে যোগদান, আর এখন উপনির্বাচনে যাওয়া- এর কোনটাই বেগম খালেদা জিয়া পছন্দ করেননি। বেগম খালেদা জিয়া এটাও বলেছেন যে, ২০১৪ সালে তাহলে আমরা নির্বাচনে গেলাম না কেন।

যদিও তারেক জিয়া খালেদা জিয়াকে প্রত্যেকবারই বলে আসছেন যে, ’১৪ এর নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল এবং সেই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে বিএনপিকে। যদিও বেগম খালেদা জিয়া এখনো মনে করেন ২০১৪ ‘র নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে যাওয়াও উচিত হয়নি। এখন এই উপনির্বাচনে যাওয়া এক ধরণের হাস্যকর বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

এর ফলে বিএনপি নামক যে সংগঠন, সেই সংগঠনটিকেই জবাই করা হচ্ছে বলে খালেদা জিয়া মন্তব্য করেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। আর এর ফলে যদি বিএনপির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যায়, তাহলে জিয়া পরিবারের নাম কেউ উচ্চারণ করবে না বলেও খালেদা জিয়া শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তবে ছেলের যে সিদ্ধান্ত সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা বা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো কোন বক্তব্য বেগম জিয়া রাখেননি বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার আসলেই এখন রাজনীতিতে কোন আগ্রহ নেই।

বরং তিনি তার শরীর এবং নিজেকে নিয়েই চিন্তিত। তিনি বিদেশে চিকিৎসা করতে কীভাবে যাবেন সেটি নিয়ে তিনি ভাবছেন। উপনির্বাচন কি হবে না হবে ইত্যাদি নিয়ে তার তেমন কোন ভাবনা নেই। এই নির্বাচনগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও বেগম জিয়া মনে করেন। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *