তালেবান নিয়ে বিশ্বকে যে বার্তা দিল পাকিস্তান

বাস্তববাদী হোন, ধৈর্য দেখান, যুক্ত হোন; সর্বোপরি বিচ্ছিন্ন করবেন না— এগুলোকে তালেবান সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পন্থা হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি রোডম্যাপ তৈরির পরামর্শ দিচ্ছে, যা তালেবানকে কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ পরিষ্কার করবে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বুধবার দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালেবান নিয়ে বিশ্বের প্রতি এ বার্তা দেন। কোরেশি বলেন, যদি তারা প্রত্যাশা পূরণ করে, তবে তারা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, যা স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য জরুরি।

‘একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও অনুধাবন করতে হবে— বিকল্প কি রয়েছে? এটিই বাস্তবতা, তারা কি বাস্তবতা থেকে দূরে থাকতে পারে?’, যোগ করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কোরেশি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতো পাকিস্তানও চায় শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তান।

যেখানে সন্ত্রাসীদের কোনো পদচারণা থাকবে না এবং তালেবানকে নিশ্চিত করতে হবে যে— আফগানিস্তানের মাটি যেন অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা না হয়। ‘কিন্তু আমরা বলছি— আপনারা (আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়) আচরণে আরও বাস্তববাদী হোন। তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার একটি অভিনব উপায় বের করুন।

আগে যেভাবে তাদের মোকাবিলা করা হচ্ছিল, তা কার্যকর হয়নি’, যোগ করেন তিনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং সেসব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যারা আফগানিস্তানের সম্পদ আটকে রেখেছে তারা যেন এসব অর্থ দ্রুত ছাড় করেন।

যেন আফগানিস্তানকে ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে’ এসব অর্থ ব্যবহার করা যায়। কোরেশি অঙ্গীকার করেন, পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে আলোচনার চ্যানেল খোলার ক্ষেত্রে ‘গঠনমূলক ও ইতিবাচক’ ভূমিকা রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দ্বিতীয়বারের মতো আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে তালেবান।

এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় ছিল গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি তালেবান তাদের সরকারে নতুন বেশ কিছু মন্ত্রী-উপমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে। সেখানে তারা— তাজিক, উজবেক এবং হাজারা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের রেখেছেন, যা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তালেবানকে সামনের দিনগুলোতে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে, যা তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। কোরেশি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যা করতে পারে তা হলো—একসঙ্গে বসে রোডম্যাপ তৈরি করা। এই রোডম্যাপকে সামনে রেখে আমি মনে করি আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার থেকে পর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, লড়াই থেমেছে এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অনেকেই বাড়ি ফিরছেন। এটি ইতিবাচক লক্ষণ।

কোরেশি ধৈর্য ধরার এবং বাস্তবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করার জন্য পূর্বে নেওয়া সব পদক্ষেপ ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং নতুন কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে রাতারাতি কোনো সাফল্যের প্রত্যাশা করবেন না। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘দীর্ঘ দুই দশকে তাদের বোঝাতে বা নির্মূল করতে পারেনি,

আপনারা কীভাবে দুই মাসে বা দুই বছরের মধ্যে তা করতে পারবেন?’ ছয় মাসের মধ্যে আফগানিস্তান কেমন হতে পারে তার পূর্বাভাস আছে কিনা জানতে চাইলে কোরেশি উল্টো যিনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি আমাকে আগামী ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের নিশ্চয়তা দিতে পারেন?

দীর্ঘ ২০ বছরের আগ্রাসন শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পর তারা সরকার গঠন করে। যদিও সরকারে কোনো নারী সদস্য না থাকায় সমালোচনার মধ্যে পড়েছে নতুন সরকার।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.