তুরস্কে মসজিদ বেড়েছে ১০ শতাংশ, এরদোয়ানের টার্গেট ২০২৩!

সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কে এক সময় আরবিতে আজান দেয়া, মাদ্রাসা শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে দেশটির ‘ক্যারিসমেটিক’ নেতা রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বদলাতে থাকে পরিস্থিতি। তার গত এক দশকের শাসনামলে তুরস্কে মসজিদের সংখ্যা ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে খোদ দেশটির বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকরা।

তবে তারা এটাকে নেতিবাচক হিসবে উল্লেখ করছেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে বিরোধী পক্ষ বলছে, রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভোটব্যাংক বাড়াতে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করছেন এরদোয়ান। বিশেষ করে সুন্নি মতাবলম্বীদের ভোট টানতে চাইছেন তিনি। এ জন্য ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইমাম হাতিপ’ স্কুল ও মসজিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়িয়ে চলেছেন এরদোয়ান।

নব্বইয়ের দশকে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির অঙ্গনে আলোচনার ঝড় তোলেন এরদোয়ান। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতি উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয় ২০০০ সালে। জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) গঠন করে ২০০৩ সালে নির্বচিত হয়ে সরকার গঠন করে এক সময় জেল খাটেন এরদোয়ান। তার মতো তার রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে আসেছেন ধর্মনিরপেক্ষরা।

সম্প্রতি পশ্চিমারাও এরদোয়ানের বিরুদ্ধে তুরস্ককে ওসমানীয় আমলের আদর্শে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে আয়া সোফিয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আনা হয়। এক সময়ের এই গির্জাকে ‘দখল করে’ মসজিদে রূপ দেন ওসমানীয়রা। সেটিকে পরে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়, যা ফের মসজিদে পরিণত করেছেন এরদোয়ান।

তুরস্কে মুসলিম-খ্রিস্টানদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত স্থাপনাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেয়েছে। আদালতের রায়ের মাধ্যমে এটিকে মসজিদ বানানো হলে জুম্মার নামাজ পড়ে উদ্বোধন করেন এরদোয়ান। ৯০ বছর পর সেখানে আবারো নামাজ আদায় করেন মুসলমানরা।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ নির্মাণ, বিভিন্ন স্থাপনা উদ্বোধনে ইসলামী রীতি অনুসরণ এবং মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ করা হয় এরদোয়ানের বিরুদ্ধে। এসবের পেছনে ২০২৩ সালের নির্বাচনে ভোট বাড়ানোর চেষ্টা দেখছেন বিরোধী ধর্মনিরপেক্ষরা।

তারা বলছেন, সম্প্রতি ধর্ম বিষয়ক জাতীয় পরিষদ ‘দিয়ানেট’র নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলে ৩০ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। এই পরিষদের বাজেট তুর্কি অনেক মন্ত্রণালয়ের চেয়েও বেশি থাকার পরেও আগামী বছর আরো বাড়িয়ে ১.৮৬ বিলিয়ন করার কথা জানিয়েছেন এরদোয়ান।

ডয়চে ভেলে জানায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলাম ধর্মকে ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেননি এরদোয়ান। বরং তার কার্যালয় থেকে ১০০ বছর আগের একটি ছবি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করা হয়। তাতে নতুন পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে নামাজ পড়তে দেখা যায় তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতার আমদানিকারক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.