দলের জন্যই কিপিং ছেড়েছেন মুশফিক

মুশফিকুর রহিম আর কখনো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উইকেটরক্ষণের দায়িত্ব নেবেন না- এমন সিদ্ধান্ত দলের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন খালেদ মাসুদ পাইলট। তার মতে নুরুল হাসান সোহান দলে জায়গা পাকা করতে না পারলে মুশফিককেই আবার ফিরতে হবে সেই দায়িত্বে।

জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিয়মিত উইকেটরক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন সোহান। গত দুই সিরিজে অবশ্য মুশফিক স্কোয়াডে ছিলেন না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুশফিক স্কোয়াডে ফেরার পরে কোচ জানান, সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সোহান ও পরের দুই ম্যাচে মুশফিক কিপিং করবেন।

তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামতেই দেখা যায় কিপিং করতে নামছেন সোহান। ম্যাচ শেষে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানান, মুশফিক আর টি-টোয়েন্টিতে কিপিং করবেন না। পাইলটের মতে এই সিদ্ধান্ত দলের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। পাইলট বলেন, “কৌশলগত কারণে হয়ত সোহানকে কিপিংয়ে বেছে নিয়ে কোচ ও অধিনায়ক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের স্বার্থে।

সোহানকে ঘরোয়া ক্রিকেটে কখনো ফিল্ডিং করতে দেখা না, সে মাঠে কেমন করবে, যদি ক্যাচ ছেড়ে দেয় এসব কিছু চিন্তা করেই হয়তো সোহানকে কিপিং করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” দলের মধ্যকার মান-অভিমান নিয়ে তিনি বলেন, “যদি এখানে কিছু মান-অভিমান করে হয়, খেলার মধ্য বা একটা পরিবারেও ছোটখাটো জিনিস থেকে মান-অভিমান আসতে পারে।

কিন্তু ক্রিকেটে থাকার স্বার্থে, দলের স্বার্থে, ভালো দলের স্বার্থে এই মান-অভিমানগুলো দূর করা ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব।” মুশফিকের দিক থেকে পাইলট বলেন, “আমি নিশ্চিত যে মুশফিক হয়ত মান-অভিমান করেনি হয়ত এই সিরিজে সে চিন্তা করেছে, সোহান ভালো কিপিং করছে এবং সে ভালো ফিল্ডিং করছে, এই চিন্তা করেই মুশফিক টি-টোয়েন্টিতে কিপিং করবেন না বলেছেন।

দলের স্বার্থে কোচ ও অধিনায়ককেও অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।” দলের যেকোনো সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পক্ষে পাইলট, “এখন আমাদের দলে তিনজন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান আছেন। মুশফিক তাদের মধ্য একজন অনবদ্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়।

দলের প্রত্যেক কঠিন সময়েই সে কিপিং করে দলকে ভালো কিছু এনে দিয়েছেন, সেই সাথে ভালো ব্যাটিং করেছেন। সোহানের ব্যাপারটা দলের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাকেও স্বাগত জানাতে হবে।” সোহান দীর্ঘদিন পরে জাতীয় দলে ফিরেছেন। ব্যাটিং দিয়ে এখনো দলে জায়গা পাকাপোক্ত করতে পারেননি।

তাই পাইলট মনে করেন, সোহান দলে জায়গা ধরে রাখতে না পারলে মুশফিককেই আবার উইকেটরক্ষণের দায়িত্বে ফিরতে হবে। পাইলটের ভাষায়, “ক্রিকেটে মান-অভিমান করলে হয় না, মুশফিক অবশ্যই চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাছাড়া কোনো কারণে সোহান যদি দলে জায়গা পাকাপোক্ত করতে না পারে তাহলে কিন্তু আবার মুশফিককেই আসতে হতে পারে। দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কখনো কখনো নিজেকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সব জায়গায় এমন ছোটখাটো ভুলত্রুটি থাকে। আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে।”

Sharing is caring!