দিনশেষে স্বস্তিতে বাংলাদেশ

লেন্থ বজায় রেখে সকালের শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল বাংলাদেশ। আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরুর ঘণ্টায় নিউজিল্যান্ডকে চেপে ধরলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছন্দ হারাতে থাকে বাংলাদেশের বোলাররা। এরপরের গল্পটা কেবলই কনওয়ের। দলের বিপর্যয়ে মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটার সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে উল্টো বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে রাখেন।

তবে শেষ সেশনে কিউইরা তিন উইকেট হারালে কনওয়ের সেঞ্চুরির পরও স্বস্তিতে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।মাউন্ট মঙ্গানুইতে টস জিতে বোলিং করতে নেমে দুর্দান্ত শুরু করেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ এবং শরিফুল ইসলাম। তাদের দুজনের সুইং সামলাতে বেশ খানকিটা হিমশিম খেতে হচ্ছিলো টম লাথাম এবং উইল ইয়ংকে। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেুক থ্রু এনে দেন শরিফুল।

বাঁহাতি এই পেসারের ফুল লেংথের বল খেলতে গিয়ে ইন সাইড এজ হয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন লাথাম। বাঁদিকে খানিকটা ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিতে ভুল করেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার। তাতে কেন উইলিয়ামসনের পরিবর্তে অধিনায়ক হিসেবে খেলতে নামা লাথাম আউট হয়েছেন এক রান করে।

এরপর দারুণভাবে জুটি গড়ে তোলেন ডেভন কনওয়ে এবং ইয়ং। যদিও শরিফুল এবং তাসকিনের দারুণ বোলিংয়ের সামনে ধুঁকতে হচ্ছিলো তাদের। কিউইদের ওপর থেকে চাপ খানিকটা কমে যায় এবাদত হোসেন বোলিংয়ে আসলে। ডানহাতি এই পেসার তেমনভাবে চাপ তৈরি করতে না পারায় শুরুতে সাবধানী ব্যাটিং করা কনওয়ে এবং ইয়াং রান তোলায় মনোযোগ দেন। তাতে মধ্যাহৃ বিরতিতে যাওয়ার আগে ১ উইকেটে ৬৬ রান সংগ্রহ করে কিউইরা।

মধ্যাহৃ বিরতি থেকে ফিরে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন কনওয়ে। মেহেদি হাসান মিরাজের বলে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মেরে ১০১ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেয়া ইয়ংও পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। তবে হাফ সেঞ্চুরি করার পর ইনিংস বড় করতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটার।

কনওয়ের সঙ্গ ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ইয়ং। ৫২ রান করে ডানহাতি এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে কনওয়ের সঙ্গে তার ১৩৮ রানের অনবদ্য জুটি। দিনের দ্বিতীয় সেশনের পুরোটায় প্রায় হতাশায় কেটেছে বাংলাদেশের বোলারদের। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা কনওয়ে চা বিরতি থেকে ফিরে সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৮৬ বলে পেয়েছেন বছরের প্রথম সেঞ্চুরি।

এদিকে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা রস টেলরের শুরুটা রাঙাতে দেননি শরিফুল। বেশ খানিকটা সময় উইকেটে থাকলেও সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৩১ রানে ফেরেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। টেলর আউট হওয়ার পর সাজঘরে ফিরেছেন সেঞ্চুরি করা কনওয়ে। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা কনওয়েকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছেন মুমিনুল হক। বাঁহাতি এই স্পিনারের বলে স্টাম্পিং হয়েছেন ১২২ রান করা কনওয়ে।

শেষ বিকেলের জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও এবাদতকে উইকেট দেন টম ব্লান্ডেল। ডানহাতি এই পেসারের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন ১১ রান করা ব্লান্ডেল। তাতে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৫ উইকেটে ২৫৮ রান সংগ্রহ করেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল দুটি এবং মুমিনুল, এবাদত নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: নিউজিল্যান্ড (প্রথম ইনিংস)- ২৫৮/৫ (ওভার ৮৭.৩) (কনওয়ে ১২২, ইয়ং ৫২, শরিফুল ২/৫৩)

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.