দুইজনের ফাঁসি রাতে, খাওয়ানো হলো পছন্দের খাবার ইলিশ-গরুর কলিজা!

যশোর কেন্দ্রীয় কা’রাগা’রে দুই বান্ধবী ধ.র্ষ-ণ ও হ-ত্যা মা’ম’লায় মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসা’মির ফাঁ’সি কার্যকর হবে আজ সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে। ফাঁ’সির রায় কার্যকর করতে ৬ জন জল্লাদ প্র’স্তুত রয়েছে। তাদের পছন্দের খাবারও খাওয়ানো হয়েছে।

মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের দুই আ’সামি আ’জিজুল ওরফে আজিদ ওরফে আজিজ (৫০) ও মিন্টু ওরফে কালু (৫০)। আসা’মিদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়েছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কা’রাগা’রের জেলার তুহিন কান্তি খান বলেন, আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটেই আজিজ ও কালুর মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকর করা হবে। এ সংক্রা’ন্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন, চিকিৎসক উপস্থিত থাকবেন। মৃ’ত্যুদ’ণ্ড কার্যকরে ৬ জন জ’ল্লা’দ প্রস্তু’ত রাখা হয়েছে। তারা হলেন- তেতু কামাল, মশিয়ার, লিটু ফকির, কাদের, আজিজুল ও রমজান। তারা প্রত্যেকেই ত্রিশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত।

তিনি আরও বলেন, দুইজনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়েছে। তারা রোববার ইলিশ মাছ, গরুর কলিজা, তন্দুল রুটি ও মুরগির গ্রিল খেয়েছেন। আজ (সোমবার) মুরগির মাংস ও দই খাওয়ানো হয়েছে। তারা সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।

জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আলমডাঙ্গা থা’নার জোড়গাছা গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ধ.র্ষ-ণে-র পর হ-ত্যা করে লা’শ ফে’লে রাখা হয় রায়লক্ষ্মীপুর মাঠে। এ ঘটনায় খু’নে’র পরদিন নি’হ’ত কমেলা খাতুনের মে’য়ে নারগিস বেগম আলমডাঙ্গা থা’নায় হ-ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেন। মাম’লায় দ’ণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুইজনসহ চারজনকে আ’সা’মি করা হয়। অপর দুজন হলেন একই গ্রামের সুজন ও মহি।

মাম’লা বিচারাধীন অবস্থায় মা’রা যান আসামি মহি। ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নি’র্যাত’ন দ’মন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও মিন্টুকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায় দেন। এরপর আসা’মিপক্ষের লোকজন হাইকোর্টে আপিল করেন। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দুই আ’সামির রায় বহাল রাখেন এবং আরেক আসা’মি সুজনকে খালাস দেন। ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কা’রাগার থেকে মুক্তি পান খালা’সপ্রাপ্ত সুজন।

চলতি বছরের ২৭ জুলাই তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ’ভিক্ষার আবেদন করেন। আবেদন নামঞ্জুর সংক্রান্ত চিঠি গত ৮ সেপ্টেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কা’রাগার কর্তৃপক্ষকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর ফাঁ’সির রায় কার্যকরের দিন নির্ধারণ করে কারা কর্তৃপক্ষ। ২০০৭ সালের ১০ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা জেলা কা’রাগা’র থেকে মৃ’ত্যু’দণ্ড প্রাপ্ত এই দুই আসা’মিকে যশোর কেন্দ্রীয় কা’রাগারে পা’ঠানো হয়। এতদিন এখানেই ব’ন্দি আছেন তারা।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.