দুর্গাপূজার নিয়ম নিয়ে ফেক পোস্ট, বাড়ছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছর হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের তীব্র লড়াই। পরস্পরের বিরুদ্ধে ফেক পোস্ট বা মিথ্যা প্রচারণারও অভিযোগ উঠছে প্রতিদিনই।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে। আসন্ন দুর্গাপূজার কিছু নিয়মনীতির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কয়েকটি পোস্ট রীতিমত ভাইরাল হয়ে যায়। কোভিড পরিস্থিতিতে যা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের।

ফেসবুক পোস্টকারীকে কান ধরে উঠবস করানোর হুমকি দিয়ে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রাজ্যের কয়েকটি জেলা থেকে আটক করে বেশ কয়েকজনকে। তাদের মধ্যে আসানসোলের একজন শীর্ষ বিজেপি নেতাও রয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ভাইরাল হয়েছে যে দুর্গাপুজোর সময় কাউকে রাস্তায় বের হতে দেয়া যাবে না। সারারাত কারফিউ থাকবে। এরা কারা যে এধরনের কথা বলছে। কিন্তু সরকার তো এ বিষয়ে নিয়ে এখনো কোন মিটিংও করেনি। তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, দাঙ্গাবাজদের রুখতে গিয়ে যদি পুলিশ নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে চারদিকে দাঙ্গা লেগে যাবে। তবে পুলিশ দাঙ্গা আটকাবে, এটা পুলিশের কাজ।

এ নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক উত্তেজনাও। পথে বিক্ষোভ করতে গিয়ে শনিবার আটক হন বিজেপির বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ যুব মোরচার সভাপতি সৌমিত্র খাঁ।বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ বলেন, এই রাজ্যের সরকারের বিরুদ্ধে কোন পোস্ট করলেই সত্য মিথ্যা যাচাই না করে পুলিশ গ্রেফতার করছে।

এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, চলতি বছর ভারতের দলীয় প্রচারে সবচেয়ে বেশি ফেসবুকে অর্থ বরাদ্দ করেছে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপির বিরুদ্ধে ফেসবুককে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ক’দিন আগেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরব হয়েছিলেন। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যে রাজনৈতিক দলের প্রচার যুদ্ধের হাতিয়ার হবে শুধু তাই নয় এটা নিয়ে পরস্পরকে তারা কাঠগড়াতেও তুলতে শুরু করে দিয়েছে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*