দেশে এখনও চলছে ক্যাসিনো

দেশে এখনও চলছে ক্যাসিনো ব্যবসা। তবে এবার তা হচ্ছে অনলাইনে। কোনোভাবেই যেনো এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ডোমেইন থেকে ‘অনলাইন ক্যাসিনো’ চলার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে র‌্যাব বলছে সেগুলো একদমই ছোট পরিসরে হচ্ছে। তবে এসব অনলাইন ক্যাসিনোর ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে র‌্যাব সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের মুখপাত্র লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশে অনলাইনভিত্তিক ক্যাসিনোর অভিযান মূলত র‌্যাবই প্রথম শুরু করে। এতে মূল আসামি সেলিম প্রধান বর্তমানে কারাগারে আছেন। বর্তমান সময়ে ছোটখাটো অনলাইনভিত্তিক যেসব অভিযোগ আমরা পাচ্ছি, তা বড় ধরনের সংগঠিত নয়।

আমরা দেখছি বিভিন্ন বিদেশি ডোমেইন থেকে এসব অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালিত হচ্ছে। এরকম বেশকিছু বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব কাজ করছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতবছর ক্যাসিনো বিরোধী ১১টি অভিযান করে র‌্যাব। এর মধ্যে ঢাকা শহরে ৮টি এবং চট্টগ্রামে ৩টি। এসব অভিযানে আটক করা হয় ২০১ জনকে। এদের বেশির ভাগকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়।

ওইসব অভিযানে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ছাড়াও সর্বমোট প্রায় ২৭২ কোটি টাকার এফডিআর এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়। অভিযানে ৩২টি নিয়মিত মামলা করে র‌্যাব। পরবর্তীতে আদালত ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৪টি মামলা তদন্তের অনুমতি পায় র‌্যাব। এর মধ্যে ১৩টি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। বাকি ১টি মামলার কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

মতিঝিলের ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর ঘটনায় গতবছরের ১৮ সেপ্টেম্বর যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার হয়। পরদিন কলাবাগান ক্লাব থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কৃষকলীগের নেতা শফিকুল আলম ফিরোজকে। তার ২দিন পর নিকেতন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ঠিকাদার জি এম শামীমকে। তিনি যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

এরপর ১১ অক্টোবর ভোরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বরের কমিশনার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বান্ধবীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। এ সময় তার কাছ থেকে ১টি অবৈধ পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি ও নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বরের কমিশনার তারেকুজ্জামান রাজীব র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। তার কাছ থেকে বিদেশি মদ ছাড়াও ১টি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এরপরই গ্রেপ্তার হন আরেক কমিশনার ময়নুল হক মনজু। অভিযান শুরুর পর অনেকে গা ঢাকা দিয়ে বিদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গেল বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হয়। তা একবছর হতে চলছে আগামীকাল।

ক্যাসিনোর মূলহোতা এবং প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, মূলহোতা বা প্রশ্রয়দাতাদের ব্যাপারে গণমাধ্যমে অনেক তথ্য এসেছে। পরিস্কার করে বলতে চাই, ফৌজদারি অপরাধভিত্তিক যে অপরাধ ক্যাসিনো অভিযানে হয়েছে, র‌্যাব তা তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছে।

বিচারিক কার্যক্রম শুরুর পর আদালতের নির্দেশক্রমে প্রশ্রয়দাতাদের বিষয়ে কোনো আদেশ থাকলে র‌্যাব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর দেশে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের এক বছর পূর্তি হচ্ছে। ২০১৯ সালের এই দিনে শুরু হয় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*