দেশ ছাড়লেন তামিম

এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) অংশ নিতে নেপাল গেলেন টাইগারদের ওয়ানডে কাপ্তান তামিম ইকবাল। শুক্রবার ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি বিমান করে দেশ ছাড়েন তিনি। করোনার কারণে সরাসরি ঢাকা টু কাঠমান্ডুর ফ্লাইট বন্ধ। তাই কাতার হয়ে যেতে হচ্ছে তামিমকে। আসরে ভৈরাওয়া গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলবেন এই ড্যাশিং ওপেনার। বর্তমানে হাঁটুর চোটে রিহ্যাব প্রক্রিয়ায় আছেন তামিম।

ঢাকা ছাড়ার আগে শেষবারের মতো মিরপুরে অনুশীলন করেছেন তামিম। এদিন ছেলে আরহামকে নিয়ে মাঠে আসেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। সেন্টার উইকেটে দীর্ঘক্ষণ ঝালিয়ে নেন নিজেকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি না খেলেই দেশে ফিরে আসেন তামিম। খেলেননি ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি সিরিজেও।

এই সময় হাঁটুর চোট থেকে পুনর্বাসনের জন্য পুরোপুরি বিশ্রামে ছিলেন তামিম। তবে পুনর্বাসনের সময়েও নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিং করে গেছেন তিনি। হাঁটুর ইনজুরিতে ভোগার পর নেপালের এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরবেন তামিম। দীর্ঘদিন ধরে খেলেননি জাতীয় দলের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি। তাই নাম সরিয়ে নিয়েছেন বিশ্বকাপ থেকে।

তবে রিহ্যাব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই খেলছেন ইপিএলে। ভৈরাওয়া গ্ল্যাডিয়েটর্সে সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন শাহিদ আফ্রিদি, সিকান্দার রাজা, উপুল থারাঙ্গা, কেসরিক উইলিয়ামসের মতো তারকা ক্রিকেটারদের। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগ। তামিমের দলের প্রথম ম্যাচ রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর)।

এদিকে, বিশ্বকাপ দলে তামিম না থাকায় প্রতিবাদ করেছে সমর্থকরা। তামিমকে দলে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে মানববন্ধনে এক তরুণ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি তামিমকে ডেকে কথা বলুন, আপনি ডাকলে তামিম দলে ফিরবে।

বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন তামিম। অথচ বাংলাদেশের হয়ে আইসিসির ইভেন্টে কোনো অর্জন নেই তার, অর্জন নেই বাংলাদেশেরও। এই দুটি আক্ষেপ ঘুচাতে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা জেতার ঘোষণা দিয়ে টুর্নামেন্টে খেলতে যেতে চান তিনি।

গত রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার রাসেল আর্নল্ডের সঙ্গে ফেসবুক লাইভে কথা বলেন তামিম। আইসিসির পূর্ববর্তী ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের গর্ব করার মতো তেমন কিছু না থাকলেও তামিম মনে করেন, ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভালো সুযোগ রয়েছে। বলেন, ২০২৩ বিশ্বকাপকে আমি মনে করি, আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। আমরা আমাদের ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ দিকে। তিন-চার-পাঁচ বছর আছে আমাদের।

ক্যারিয়ার শেষ করার আগে স্মরণীয় কিছু করার প্রত্যয়ে তামিম বলেন, আমরা এমন কিছু করে ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই যা বাংলাদেশ সবসময় মনে রাখবে। আমাদের চারজনের যে অভিজ্ঞতা, পাশাপাশি তরুণ যে ক্রিকেটাররা আছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, ২০২৩ বিশ্বকাপে আমাদের অবশ্যই সুযোগ আছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.