নজরদারিতে শতাধিক এমপি

৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৮ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার। ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট তিন-চতুর্থাংশের বেশি আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছিল। আওয়ামী লীগের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই ছিলো তিন-চতুর্থাংশের বেশি। আওয়ামী লীগের এটি ছিলো টানা তৃতীয় মেয়াদে সংসদ নির্বাচন বিজয়।

কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই এখন সন্দেহভাজন তালিকায় রয়েছেন, অনেকে নজরদারিতে রয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের শতাধিক এমপি এখন বিভিন্ন রকম নজরদারিতে রয়েছেন। যে সমস্ত বিষয়ে তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে:

১. দুর্নীতির বিষয়: দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগের ৬ এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এদের মধ্যে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন সহ কয়েক জনের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আর ১৪ জন এমপির বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

২. দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ড: আওয়ামী লীগের একাধিক এমপির বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। আর সে কারণে তাদেরকে বিভিন্ন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে হাবিবে মিল্লাত এমপিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেয়া হয়েছে নরসিংদীর এমপি ও সাবেক মন্ত্রী নজরুল ইসলামকেও। এরকম বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত সাতজন এমপি যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকেছেন বা দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে দলের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরাও আওয়ামী লীগের নজরদারিতে রয়েছেন।

৩. ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহ: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক এমপি তাদের নিজস্ব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করেছেন। যেখানে যেখানে তারা মনোনয়ন দিতে পারেননি সেখানে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন এবং নৌকাকে পরাজিত করার জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। শুধু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নয়, উপজেলা এবং পৌরসভা নির্বাচনে একই প্রবণতা দেখা গেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানাচ্ছে এরকম ৫৭ জন এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে অভিযোগের কারণে তারা আওয়ামী লীগের নজরদারিতে রয়েছেন। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকগণ তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন এবং কোথাও কোথাও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এই এমপিদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৪. এলাকায় নিষ্ক্রিয়তা: এলাকায় নিষ্ক্রিয়তার জন্য নজরদারিতে আছেন বেশকিছু এমপি। অন্তত ৯ জন এমপির সন্ধান পাওয়া গেছে যারা এলাকায় একেবারেই যান না। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার কোনো কর্মকাণ্ডে তাদেরকে সক্রিয় দেখা যায়নি। এই সমস্ত এমপিদের নিয়ে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড অন্তত বিরক্ত। ভবিষ্যতে তারা মনোনয়ন পাবেন কিনা সেটি নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এরকম অন্তত দুজন এমপি পাওয়া গেছে যারা এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচবার বা তার কম সময় নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছেন। এলাকায় তাদের অবস্থান অত্যন্ত নাজুক বলে জানা গেছে।

৫. মাদক, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ততা: অন্তত ৮ থেকে ১০ জন এমপির বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান এবং অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এই অভিযোগগুলো নিয়ে এখন বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করছেন। এরাও নজরদারিতে আছেন।

এভাবে মোট শতাধিক এমপি এখন বিভিন্ন ইস্যুতে নজরদারিতে রয়েছেন। ভবিষ্যতে এদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের জন্য আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.