নজরুল ইসলাম খান: মোসাহেবি রাজনীতি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তিনি কিন্তু তার না আছে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার না আছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। কর্মীদেরকে উজ্জীবিত করার মতো কোন ক্যারিশমা তার নেই। নেই তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা, এমনকি নেই নিজস্ব ভোটব্যাংক। নেই নিজস্ব কর্মীবাহিনী। দলের ভেতর তার জনপ্রিয়তাও বলতে গেলে তেমন আলোচনার বিষয় না।

কিন্তু তারপরেও তিনি বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। দলে তার ভূমিকা কি বা তিনি কী কাজ করেন সেটা দলের মধ্যেই আলোচনা হয় এবং দলের মধ্যেই এ নিয়ে নানারকম বিতর্ক আছে। বলা হচ্ছে, নজরুল ইসলাম খানের কথা। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

এক সময় শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্রেই তিনি বিএনপির নেতা হয়েছিলেন। তবে একজন রাজনৈতিক নেতার যেমন একটি জনসমর্থন থাকে, নিজস্ব কর্মীবাহিনী থাকে, একটি নির্বাচনী এলাকা থাকে- তেমন কিছুই নেই নজরুল ইসলাম খানের।

বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নজরুল ইসলাম খান রাষ্ট্রদূতের চাকরি পেয়েছিলেন। সেখানেও তার বিরুদ্ধে নানারকম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রাজনীতিতে তিনি সবসময় একজন ভালো মোসাহেব হিসেবে পরিচিত। নেতার প্রতি অনুগত থাকা এবং নেতার তল্পিবাহক হয়ে থাকাই তার রাজনীতির কৌশল।

এই কৌশল অবলম্বন করেই তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। নজরুল ইসলাম খান মূলত দলের মূল নেতার একজন অন্ধ অনুসারী এবং মূল নেতা যেটা যেভাবে বলবেন সেভাবে কাজ করাটাই তার একমাত্র কাজ। সেখানে কে কী মনে করলো, কর্মীরা কী ভাবল বা কর্মীরা কী চাইছে সেগুলো তার বিবেচনার বিষয় না।

বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা হলো দলের মূল নেতাদের সঙ্গে কর্মীদের সেতুবন্ধন। কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চিন্তাভাবনা, অনুভূতিগুলোকে দলের মূল নেতা অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়ার কাছে প্রকাশ করাটাই হলো একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যের কাজ।

কিন্তু নজরুল ইসলাম খান সেই কাজটি করেন না, বরং নজরুল ইসলাম খান চাতক পাখির মতো তাকিয়ে থাকেন দলের মূল প্রধান দুই নেতারা কী ভাবছেন, কী চিন্তা করছেন, সেটার দিকে। আর সেটা অনুরণন করাই তার একমাত্র কাজ। সেই কাজ করতে গিয়ে তিনি মাঝেমাঝেই বিপদে পড়েন।

কদিন আগেই নজরুল ইসলাম খান বললেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে না যেতে দেওয়াটা অমানবিক। এর পরপরই আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল দেখালেন যে বেগম খালেদা জিয়া আসলে বিদেশে যাওয়ার জন্যে কোন আবেদনই করেন নি।

বেগম খালেদা জিয়ার আবেদনে শুধুমাত্র জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল এবং সরকার একই শর্তে তা বৃদ্ধি করেছে। এরপর নজরুল ইসলাম খান চুপসে গেলেন। তিনি দলের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে কোন বক্তব্য রাখেন না। বরং তিনি দলে একজন ভদ্রলোক এবং খালেদা জিয়া আর তারেক জিয়ার একান্ত অনুগত ব্যক্তি বলেই পরিচিত।

বিএনপির কোন কোন নেতা বলেন, নজরুল ইসলাম খানের অবস্থা এরকম যে, বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া যদি বলেন যে, সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠেছে তাহলে নজরুল ইসলাম খানও বলবেন যে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উঠেছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতাদের অন্ধ আনুগত্য আর অন্ধ বশ্যতা স্বীকারই হলো নজরুল ইসলাম খানের রাজনীতি। সেখানে কোন আদর্শ নেই, কোন ব্যক্তিগত চিন্তাধারাও নেই।

বিএনপির মতো স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোতে গড়ে ওঠা দলে, যে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারপারসনের হাতে সর্বময় ক্ষমতা- সেই রকম দলের জন্যে নজরুল ইসলাম খান উপযুক্ত ব্যক্তি বলে মনে করেন অনেকে। আর সে কারণে একজন নেতা হওয়ার মতো যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের বড় নেতা।

বিএনপি নেতারাই মনে করেন যে, বিএনপিতে অনেক ভালো ভালো নেতা আছেন যারা স্থায়ী কমিটিতে থাকার মতো যোগ্যতা রাখেন। কিন্তু নজরুল ইসলাম খান স্থায়ী কমিটির নেতা হয়েছেন তাদেরকে ডিঙ্গিয়ে। আর এর মূল কারণ হলো নজরুল ইসলাম খান হলেন সেই রকম নেতা, যিনি বাপুরাম সাপুড়ের মতো সাপ, যিনি আসলে একজন রাজনৈতিক মোসাহেব। আর বিএনপির রাজনীতিতে রাজনৈতিক মোসাহেবরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *