নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন তামিম-মুশফিকরা

করোনা বাধা দূরে সরিয়ে মাঠে ফিরেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দিয়ে শুরু, একে একে আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়াকে জৈব সুরক্ষিত বলয় তৈরির মাধ্যমে আতিথেয়তা দিয়েছে দ্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) ও আজ (১৯ সেপ্টেম্বর ) থেকে শুরু হওয়া আইপিএল দিয়ে জৈব সুরক্ষিত বলয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদেরও। তবে এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের ক্রিকেটে ফিরতে না পারা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের এই অভিজ্ঞতা হচ্ছে একটু দেরিতে।

শ্রীলঙ্কা সফর সামনে রেখে আগামীকাল (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হবেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবালরা। লঙ্কা সফরের ভাগ্য এখনো ঝুলছে শ্রীলঙ্কান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেতের উপর। কিন্তু নিজেদের কার্যক্রম ঠিকই গুছিয়ে রাখছে বিসিবি।

স্কিল ট্রেনিংয়ের জন্য ২৭ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডও ঘোষণা করেছে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ক্যাম্প, পূর্বঘোষিত সম্ভাব্য সূচি অনুসারে ২৭ সেপ্টেম্বর লঙ্কান বিমানে চড়ার কথা টাইগারদের।

সে হিসেব করেই ইতোমধ্যে দ্বিতীয় দফার করোনা টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে ২৭ জন ক্রিকেটারের, ফল হাতে আসা ১৮ জনের সবাই নেগেটিভ হয়েছে। বাকিদের ফল জানা যাবে আগামীকাল (২০ সেপ্টেম্বর)। এই ২৭ ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা আগামীকাল থেকেই হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁয়ে জৈব সুরক্ষিত বলয়ে প্রবেশ করবেন।

সফর নিশ্চিত হলে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার আগে মাঠে অনুশীলন আর হোটেলেই সীমাবদ্ধ থাকবে তাদের পদচারণা। এই জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে অবস্থানকালেই হবে আরও দুই দফা করোনা টেস্ট। আগামীকাল বেলা সাড়ে ১১ টায় হোটেলে চেক ইনের পর ২ টা ৪৫ মিনিটে মিরপুরে শুরু হবে প্রথম দিনের স্কিল ট্রেনিং।

জৈব সুরক্ষিত পরিবেশ সম্পর্কে বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীস চৌধুরী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘বিসিবি জৈব নিরাপত্তামূলক বা বায়ো সিকিউর পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।এই সুরক্ষা বলয় বা বাবল এর আওতায় খেলোয়াড়দের অবস্থানকালীন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মাঠে আসা যাওয়া করার পরিবহন, জিম, সুইমিং পুল অর্থাৎ ট্রেনিং সুবিধা, মেডিকেল ট্রিটমেন্ট রুম সবই থাকবে।’

এই জৈব সুরক্ষিত বলয় তৈরিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও কোভিড বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াও বিসিবি অনুসরণ করেছে ইসিবি ও আইসিসির নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে দেবাশীস চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং কোভিড-১৯ বিশেষজ্ঞদের তত্বাবধানে ইসিবি ও আইসিসির গাইডলাইনের আলোকে আমরা প্রতিটি খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের দফায় দফায় পরীক্ষা করার মাধ্যমে

এবং তাদের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের অনপুস্থিতি নিশ্চিত হয়ে জৈব সুরক্ষিত পরিবেশে নিয়ে এসেছি। শ্রীলঙ্কা সফরের আগ পর্যন্ত আমরা এই বায়ো বাবল মেইনটেইন করার চেষ্টা করছি।’ ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফের বাইরে হোটেল কর্মচারী, মাঠকর্মীদেরও নিয়ে আসা হচ্ছে জৈব সুরক্ষিত বলয়ের অধীনে।

বিসিবি প্রধান চিকিৎসক যোগ করেন, ‘হোটেলের কর্মচারী, মাঠ কর্মী, ক্লিনার যাদের খেলোয়াড়দের কাছে আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাদেরকেও আমরা টেস্ট করে নেগেটিভ হলেই বায়ো বাবলে নিয়ে আসবো। এই বায়ো সিকিউর বাবল তৈরি ও নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি খেলোয়াড়ে ও সাপোর্ট স্টাফদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণটা যেন সুরক্ষিত থাকে এবং নিঃসংকোচিত হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *