নেই বাংলাদেশি, ১২০০ টাকার রুম ৫০০ টাকা!

চিকিৎসার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় যান অনেক বাংলাদেশি। বিশেষ করে বাইপাসের ধারে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে প্রায়ই এমন চিত্র দেখা মিলতো। কিন্তু করোনাকালীন বিধিনিষেধ সেই চিত্র একেবারেই পাল্টে দিয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উভয় দেশে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর প্রভাব পড়েছে কলকাতার বাইপাসের হাসপাতাল এবং তার আশপাশের গেস্টহাউজগুলোতে। বাংলাদেশিদের জন্যই এগুলো টিকে থাকে বলা যায়।

করোনা পরিস্থতি বিবেচনায় মেডিকেল ভিসায় সবুজ সংকেত দেয়া হলেও আগের মতো বাংলাদেশিরা যাচ্ছেন না কলকাতায়। ফলে সেখানকার প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগী না থাকায় গেস্টহাউজগুলোও ফাঁকা পড়ে আছে। বাংলাদেশি রোগীদের আত্মীয়-স্বজনরা এসব গেস্টহাউজে উঠে থাকেন।

কলকাতার মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী একটি গেস্টহাউজের ম্যানেজার দেবাশীষ মেটে। তিনি জানান, তাদের ৩২টি রুম রয়েছে, যার প্রায় সবগুলোই আগে বাংলাদেশি রোগীদের স্বজনে পূর্ণ থাকতো। কিন্তু এখন তাদের অর্ধেকের বেশি রুম খালি পড়ে থাকছে।

করোনার ক্ষতি কমিয়ে আনতে ৫০ শতাংশ স্টাফ কমানো হয়েছে উল্লেখ করে দেবাশীষ মেটে বলেন, তাদের ১২০০ টাকার রুম এখন ৫০০ টাকায় দিচ্ছেন। তারপরেও ফাঁকা থাকছে অনেক রুম। এতে বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। বাংলাদেশি রোগীদের একটি বড় অংশ ভোরের ফ্লাইটে এসে ডাক্তার দেখিয়ে রাতের ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

করোনার কারণে অনেকেই কলকাতায় অবস্থান করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না, বলছেন দেবাশীষ মেটে। আরেক গেস্টহাউজের ম্যানেজার আশরাফ গাজী জানান, সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অবস্থা ধীরে ধীরে পাল্টাতে শুরু করেছে। ফলে আবারো বাংলাদেশি রোগীরা কলকাতায় আসবেন, তাদের স্বজনরা গেস্টহাউজগুলোতে থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.