নৌকা প্রতীকে হাসিনা পেলেন ৯৩ ভোট!

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ ভোট। উপজেলার খাতা মধুপুর ইউনিয়নের ওই প্রার্থীর নাম মোছা. হাসিনা বেগম। ওই নির্বাচনে পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী প্রার্থী। এমন শোচনীয় পরাজয়ের পর তিনি নির্বাচনে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পদটিতে আমি দলীয় মনোনয়নে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পরও সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন সরকারের ভাই মাসুদ রানা বাবু পাইলট। সভাপতি নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁর ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করেছেন। এমনকি দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তাঁর ভাইয়ের পক্ষে নিয়েছিলেন। এ বিষয়ে আমি উপজেলা এবং জেলা আওয়ামী লীগে অভিযোগ জানিয়েও কোনো ফল পাইনি।’

হাসিনা বেগম বলেন, ‘চতুর্থ ধাপের ওই ইউপি নির্বাচনে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাই। সেখানে আমার বিজয়ও নিশ্চিত ছিল। কিন্তু আমার পরাজয় ঘটানো হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় হওয়ায় এখন সভাপতিসহ সকল নেতাকর্মী মিলে উৎসব করছেন।’ এমন ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউনিয়নটিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদ রানা বাবু পাইলট। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন সাত হাজার ৪০৫ ভোট। নিকটতম মো. জুয়েল চৌধুরী (আনারস) পেয়েছেন ছয় হাজার ৯৭৮ ভোট। সেখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবুল কাশেম আলী (হাতপাখা) ২২৬, পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের মোছা. হাসিনা বেগম (নৌকা) ৯৩ ভোট পেয়ে রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহফুজ রেজা (টেলিফোন) পেয়েছেন ৭৬ ভোট।

এ বিষয়ে খাতা মধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন সরকার মুঠোফোনে বলেন, ‘যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন তাঁর শোচনীয় পরাজয়ের কারণ। তাঁকে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের সেখানে কোনো মতামত ছিল না। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে একমাত্র মাসুদ রানা বাবু পাইলটকে প্রার্থিতা প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ইউনিয়নটিতে ২৭ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন, আমি নিজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম, গত দুই মেয়াদ থেকে উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের পরিবার রাজনৈতিক পরিবার। সেখানে আমার ছোট ভাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক।’ এ সময় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কোনো প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.