প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার হ’ত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য ।

৩১ জুলাই, রাত ৯টা। টেকনাফ থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে নিজস্ব প্রাইভেট কারে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন সিফাত নামের আরেকজন। ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কটির পশ্চিম পাশে উত্তাল বঙ্গোপসাগর, আর পূর্ব পাশে উঁচু সবুজ গাছপালার পাহাড়সারি।

সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়কটি আগে পর্যটকদের ভ্রমণে উৎ’কৃষ্ট স্থান হলেও এখন আ’তঙ্কের এলাকায় পরিণত হয়েছে। এ সড়কে ব’ন্দুকযু’দ্ধে মানুষের মৃ’ত্যুর সা’রি লম্বা হতে থাকায় সন্ধ্যার পর কেউ মেরিন ড্রাইভে উঠতে ভ’য় পান। সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত সড়কটি ফাঁকাই পড়ে থাকে।

মেজর (অব.) সিনহার গাড়িটি প্রথমে বিজিবির একটি চে’কপোস্ট এসে থামে। পরিচয় পাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা তাঁদের ছেড়ে দেন। এরপর রাত ৯টার দিকে সিনহার গাড়িটি এসে পৌঁছায় দ্বিতীয় চে’কপোস্ট টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চে’কপোস্টে। পুলিশের নির্দেশনা পেয়ে গাড়ি থেকে প্রথমে হাত উঁচু করে নামলেন সিফাত।

এরপর নিজের পরিচয় দিয়ে হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নামলেন মেজর (অব.) সিনহা। সিফাতের ভাষ্য, কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই মেজর (অব.) সিনহার বু’কে একে এ’কে তিনটি গু’লি ছো’ড়েন পুলিশ ফাঁ’ড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী। মুহূর্তেই তিনি মা’টিতে ঢ’লে প’ড়েন। সিনহার ব্যক্তিগত পি’স্ত’ল থাকলেও সেটি গাড়িতে ছিল। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ওই দিনের ঘ’টনা সম্পর্কে এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশের ভাষ্য অন্য রকম। পুলিশ বলছে, চে’কপোস্টে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে ত’ল্লাশি করতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা বা’ধা দেন। এই নিয়ে ত’র্কবি’তর্কের একপর্যায়ে অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তা তাঁর কাছে থাকা পি’স্ত’ল বের করলে পুলিশ গু’লি চা’লায়।

এতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গু’রুতর আ’হ’ত হন। তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃ’ত ঘোষণা করেন। ঘ’টনার পর সিনহা যে গেস্টহাউসে উঠেছিলেন সেই গেস্টহাউসে সিনহার কক্ষে ত’ল্লাশি করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সেখান থেকে বিদেশি ম’দ ও গাঁ’জা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন বলেছিলেন, শামলাপুরের লোকজন ওই গাড়ির আরোহীদের ডা’কাত স’ন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেন। এই সময়ে ত’ল্লাশি চে’কপোস্টে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু গাড়ির আরোহী একজন তাঁর পি’স্ত’ল বের করে পুলিশকে গু’লি ক’রার চে’ষ্টা করেন। আ’ত্মরক্ষার্থে পুলিশ গু’লি চা’লায়। এতে ওই ব্যক্তি গু’লিবি’দ্ধ হয়ে মা’রা যান।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, হাসপাতালে আ’নার আগেই অবসরপ্রাপ্ত ওই সেনা কর্মকর্তার মৃ’ত্যু হয়েছিল। শনিবার সকালে তাঁর ম’য়নাত’দন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শাহীন মো. আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তার বু’কে ও পি’ঠে জ’খ’মের দা’গ আছে। ম’য়নাত’দন্ত রিপোর্ট হা’তে এলে বলা যাবে জ’খ’মের চিহ্ন গু’লির কি না।

সিনহার শরীরের ওপরের অংশ ক’র্দমা’ক্ত এবং বুক ও গলা গু’লিবি’দ্ধ ছিল। হাতে হা’তক’ড়া লাগানোর দা’গ ছিল বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। নি’হ’ত সেনা কর্মকর্তা সিনহার বাড়ি যশোরের বীর হেমায়েত সড়কে। তাঁর বাবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব মু’ক্তিযো’দ্ধা মরহুম এরশাদ খান।

সিনহা ৫১ বিএমএ লং কোর্সের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন লাভ করেন। ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করেন। সূত্র: প্রথম আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *