বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে বাদ পড়ছেন সেরা ২ টাইগার

চলছে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ (ডিপিএল) আর এবার ভিন্ন ভাবে আয়োজিত হচ্ছে এবারের ঢাকা লীগ। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এবার লীগ খেলার অতো বেশি সময় নেই তাই টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা করে বিসিবি। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি কার্যকর থাকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

সে অনুযায়ী প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করে বোর্ড। ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে এ বছর। জুন ছুঁয়ে ফেললেও কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা করা হয়নি। এই দেরির কারণ করোনা মহামারির জন্য ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলা।

বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী এ কথা জানান। আসরে কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্রিকেটার বাছাই ও বেতন গ্রেড ঠিক করে বোর্ডের কাছে জমা দেওয়ার কাজটি করে থাকে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। বছরের অর্ধেক চলে গেলেও সেটা করতে পারেনি তারা।

তবে বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানালেন, বর্তমান পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ বিবেচনায় রেখে নতুন চুক্তির ক্রিকেটার বাছাই প্রক্রিয়া শেষের পথে। সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ চুক্তিতে ফিরছেন বলে জানান তিনি। এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুনকে।

২০২০ সালের মার্চের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছিল না বাংলাদেশ। করোনাকালে জাতীয় দল ক্রিকেটে ফিরেছে জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ দিয়ে। এই ছয় মাসে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলেছে দুটি করে। সৌম্য-মিঠুন দলে থাকলেও সেভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

যে ক’টি ম্যাচ খেলেছেন তাতে পারফরম্যান্স করতে পারেননি। সে কারণে এ দুই ক্রিকেটার চুক্তিতে থাকছে না বলে জানান নান্নু। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে জাতীয় দলে ফেরার পরই কার্যকর করা হয়েছে সাকিবের চুক্তি। তিনি বেতন পাচ্ছেন জানুয়ারি থেকেই। তাসকিনকে ফিরতে হয়েছে পরীক্ষা দিয়ে।

এ বছর সুযোগ পাওয়া সব সিরিজেই ভালো করার পুরস্কার পাচ্ছেন ডানহাতি এ পেসার। ভালো খেলার পুরস্কার দেওয়া হবে অফস্পিনার শেখ মেহেদীকেও। ‘ডি’ গ্রেডে বেতনভুক্ত করা হবে তাকে। চুক্তিতে ফেরানো হতে পারে টেস্ট ওপেনার সাদমান ইসলাম অনিককে।

পারফরম্যান্স ও ইনজুরির কারণে ২০২০ সালের চুক্তি থেকে বাদ পড়েছিলেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। চুক্তিতে ফেরার বছরে বাদ পড়তে হতে পারে টেস্ট বোলার এবাদত হোসেনকে। টাইগার এ ফাস্ট বোলারের পারফরম্যান্স সন্তুষ্ট করতে পারছে না জাতীয় দল নির্বাচকদের।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হিসেবে আগে থেকেই বোর্ডের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে থাকায় বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না নির্বাচকদের। মাসে এক লাখ টাকা করে বেতন পান তিনি। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেওয়া হলে উল্টো বেতন কমে যেত তার।

তবে নতুন চুক্তির ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা না করায় ২০২০ সালের তালিকায় থাকারাই এপ্রিল মাস পর্যন্ত বেতন পেয়েছেন। মে মাসের বেতন নতুন চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের দেওয়া হবে বলে জানান সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী। যেটা কার্যকর থাকবে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সেক্ষেত্রে অন্যদের থেকে চার মাস কম বেতন পাচ্ছেন তারা।

সিইও বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এটা করতে হচ্ছে। গত বছর খেলা হলে এতদিনে চুক্তি হয়ে যেত। খেলা না হওয়ায় পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। চারটি সিরিজ খেলে ফেলায় সে জটিলতা কেটে গেছে। আমার জানা মতে, বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে ক্রিকেট অপস।’

কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানার জন্য ফোন করে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খানকে পাওয়া যায়নি। যে অজুহাতে কেন্দ্রীয় চক্তির ক্রিকেটারদের তালিকা প্রকাশ করতে দেরি করছেন আকরাম খানরা সেই পারফরম্যান্স বড় কোনো পরিবর্তন আনে না।

কারণ তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, মুমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজ, লিটন, মিরাজ, সাইফউদ্দিন, রাহি, শান্ত, নাঈম হাসান, আফিফ, নাঈম শেখরাই তো থাকবেন চুক্তিতে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.