বাংলাদেশ নিয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ

বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে কাঁচামাল আমদানি করে তার একটি অংশ আসে চীন থেকে। শুধু কাঁচামাল নয়, কৃষিজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চীনের একটি বড় বাজার। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এখন চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হয়েছে।ব্যবসায়ীরা বলছে, চীনা নববর্ষের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। এখন পর্যন্ত অনেক কারখানাই খোলেনি। ফলে কাঁচামাল আমদানিতে একটি সংকট তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এজন্য গার্মেন্ট, ঔষধ শিল্প এবং খাদ্যজাত পণ্যের জন্য বিকল্প বাজার খোঁজা হচ্ছে। এজন্য ইতিমধ্যেই বিজেএমইএ থেকে ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এই দুটি দেশ গার্মেন্টেসের কাঁচামাল যেমন সুতা, বোতামসহ বিভিন্ন এক্সেসরিজ তৈরি করে। একই সঙ্গে আদা রসুন ও মসলা জাতীয় পণ্য আমদানির জন্য ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ব্যবসায়ীরা।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের বাজার দখল করতে এখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছে। দুই দেশই বাংলাদেশে চীনের যে বাজারের অংশ সেটি দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। কিন্তু ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই সম্পর্ক উন্নয়নে নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছেন। আর সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছুদিন আগে ভারত যখন বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল তখন পাকিস্তান বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে তারা অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও পাকিস্তানের কুটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে নাগরিকত্ব আইন ও নাগরিক পঞ্জি নিয়ে বাংলাদেশের ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কে শীতলতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিজেপি নেতাদের লাগামহীন বক্তব্য দুদেশের সম্পর্কের মধ্যে একটা স্পষ্ট টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সীমান্তে অনভিপ্রেত ঘটনা, বাংলাদেশিদের আটক, নির্যাতন, হত্যায় দুদেশের সম্পর্কে ভাটার টান পড়েছে। এই সুযোগটিই নিতে চাইছে পাকিস্তান। তারা মনে করছে যে, ছাড় দিয়ে হলেও যদি বাংলাদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যায়, তাহলে পাকিস্তানের ভঙ্গুর এবং ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতির জন্য সেটি ইতিবাচক হবে।

এজন্যই পাকিস্তান থেকে ব্যবসায়ী এবং বাণিজ্যিক কর্মকর্তারা এখন ঘন ঘন ঢাকায় আসছেন।এই বিষয়টির দৃষ্টি এড়াইনি ভারতের। আর তাই ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে হত্যা যেন দ্রুত বন্ধ হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য বিএসএফকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহনশীল আচরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, গার্মেন্টেসের কাঁচামাল যদি ভারত বাংলাদেশে রপ্তানি করতে পারে, তাহলে ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তা বিরাট অবদান রাখতে পারে। কারণ গার্মেন্টস রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র হলেও বাংলাদেশে গার্মেন্টস এর কাঁচামাল এক্সেসরিজের জন্য পুরোপুরি চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেখানে বিরাট একটা বাজার রয়েছে।আর এ কারণেই বাংলাদেশের বাজার দখলের জন্য ভারত পাকিস্তানের বাণিজ্য যুদ্ধ এখন চলছে। এই বাণিজ্য যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কে জয়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*