বাবার জন্য ভিক্ষায় নামা সেই শিশুটির পাশে দাঁড়ালেন তথ্যমন্ত্রী

শিশু আকলিমার বয়স যখন দুই বছর তখন ডা’য়াবেটিসসহ নানা রোগে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা’রা যান আকলিমার মা নাসিমা আক্তার। এরপরই ছোট মেয়েকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন হেলাল। দীর্ঘদিন আশপাশের লোকজনের কাছে মেয়েকে রেখে কাজে যেতেন তিনি। অনেক কষ্টে মেয়েকে বড় করে স্থানীয় একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়েছেন।

তিন বছর আগে হৃদ’রোগ, উচ্চ র’ক্তচাপ, শ্বা’সকষ্টসহ নানা রোগে আ’ক্রা’ন্ত হন তিনি। ফলে এখন আর কাজ করতে পারেন না। এমন অবস্থায় হেলালের ওষুধ ও খাবার জোগাতে ভিক্ষায় নামে তার ১২ বছরের মেয়ে আকলিমা আক্তার। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তার উদ্যোগে শনিবার দুপুরে আকলিমা ও তার অসুস্থ বাবা মো. হেলালের হাতে দুটি ভ্যান ও নগদ অর্থসহায়তা তুলে দেন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্বাস আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবীর উজ্জ্বল, মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন মাস্টার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থ বাবা মো. হেলালকে নিয়ে পঞ্চগড়ে মুক্তিযো’দ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলস্টেশন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে শিশু আকলিমা আক্তার। হেলালের পৈতৃক বাড়ি ছিল মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায়। ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রীর পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। দ্বিতীয় বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে সাভার এলাকায় আলাদা থাকতেন হেলাল। সেখানেই জন্ম হয় আকলিমার।

সেখান থেকে মেয়ে আকলিমাকে নিয়ে ট্রেনে চেপে তিনি চলে আসেন পঞ্চগড়ে। আকলিমা প্রতিদিন সকালে রেলস্টেশন এলাকায় হোটেল থেকে পরোটা কিনে বাবাকে খাইয়ে এবং নিজে খাওয়ার পর বাবাকে ওষুধ খাইয়ে ভিক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। জেলা শহর ছাড়াও আশপাশের বাজারে ভিক্ষা করে দিনে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ টাকা পায় সে।

এই টাকা দিয়েই বাবার জন্য ওষুধ ও খাবার কেনে আকলিমা। এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে বিষয়টি চোখে পড়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের। আকলিমার বাবা মো. হেলাল তথ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের মতো নগণ্য মানুষদের খবর তিনি রাখেন। এখন আর আমার শিশু মেয়েটিকে ভিক্ষা করতে হবে না। দুটি ভ্যান কাউকে ভাড়া দিয়ে সেখান থেকে যে আয় আসবে তা দিয়েই দুজনের সংসার ও ওষুধপত্র কেনা যাবে।

এখন মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাবো। পাশাপাশি তাকে সেলাইয়ের কাজ শেখাবো। পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট বলেন, শিশু আকলিমা তার বাবার ওষুধ ও খাবারের জন্য ভিক্ষা করছে- গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর তা তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের চোখে পড়ে।

তিনি তাৎক্ষণিক শিশুটিকে সহায়তার জন্য আমার কাছে কিছু টাকা পাঠান। সেই টাকা থেকে তাদের হাতে দুটি ভ্যান ও নগদ অর্থসহায়তা তুলে দেয়া হলো। ভ্যান দুটি ভাড়া দিয়ে তারা নিজেদের খরচ জোগাতে পারবে। এছাড়া তথ্যমন্ত্রী তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি বাড়ি করে দেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *