বিশ্বকাপের আগে বড় দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ

Bangladesh's cricketers celebrate their victory at the end of the second Twenty20 international cricket match between Bangladesh and New Zealand at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on September 3, 2021. (Photo by Munir Uz zaman / AFP)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে টানা তিন সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকারই কথা মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর। কিন্তু তা হচ্ছে আর কই। দলের তিন ওপেনার লিটন-সৌম্য-নাঈম ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ। এছাড়া ফর্মে নেই অভিজ্ঞ সাকিব-মুশফিকরাও। আর তাই নড়বড়ে ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।

সদ্য শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ জিতলেও ব্যাটিংয়ে হতশ্রী অবস্থা বাংলাদেশের। ১৫৯ রান নিয়ে সিরিজ সেরা রান সংগ্রাহক কিউই কাপ্তান টম লাথাম। এই তালিকায় শীর্ষ পাঁচের তিনজনই নিউজিল্যান্ডের। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।

বিশেষ করে সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখের ব্যাটে ভর করে রেকর্ড গড়েও জিততে দেখা গেছে দলকে। কিন্তু ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেন চিত্রপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে। অস্ট্রেলিয়া সফরে না থাকা লিটন কুমার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলে ফিরলেও বলতে গেলে তেমন কিছুই করতে পারেননি। বারবার থিতু হয়েও ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও পুরোপুরি ফ্লপ।

এছাড়া নাঈম শেখ এক ম্যাচে জ্বলে উঠছেন তো আর দুই ম্যাচে যেন নিজেকেই খুঁজে ফেরেন। নিয়মিত ওপেনার তামিম ইকবাল না থাকায় বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে দলের ব্যাটিং শুরু করার গুরুদায়িত্ব সামলাতে হবে লিটন দাস, নাঈম শেখ ও সৌম্য সরকারকে। অথচ বিশ্বকাপের আগের এই সিরিজগুলোতে তারা ছিলেন বিবর্ণ।

ক্রিকেটের মারকাটারি এই ফরম্যাটে রান তুলতে হয় বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। সেখানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগার ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট একশ’র নিচে ছিল। সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকিয়েছেন কিউই ব্যাটাররা। বাউন্ডারির ক্ষেত্রেও তাই। কোনো ফিফটিও নেই স্বাগতিকদের। সর্বোচ্চ ইনিংসটাও নিউজিল্যান্ডের দখলে।

বোলারদের নৈপুণ্যে ঘরের মাঠে পরপর দুটি বড় সিরিজ জিতলেও তাই ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের। এদিকে, দলের অভিজ্ঞ কান্ডারি মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটও কথা বলছে না। প্রতি ম্যাচেই ব্যর্থ তারা। দুটি সিরিজেই তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন সাকিব।

রানখরায় ভুগছেন তিনিও। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাঠের লড়াইয়ে ফিরে এসে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার যেন টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের ছন্দটাই ধরতে পারছেন না। এ পর্যন্ত তিনি টানা ১২টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন, এই ১২ ম্যাচে তার সর্বোচ্চ ইনিংস মাত্র ৩৬ রানের।

দলের ব্যাটিংয়ের আরেক স্তম্ভ মুশফিকুর রহিমও রান পাচ্ছেন না। জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে না খেললেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচে ভালো সময়ে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে তার রান মাত্র ৩৯।

বিশ্বকাপের আগে দলের ব্যাটিংয়ের এমন হাল নিশ্চয়ই ভালো বার্তা দেয় না। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও এ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাটিংয়ের সুবিধাটাই নিতে পারছি না।’ তবে আশা হারাচ্ছেন না তিনি। এমন অবস্থাতেও বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যে আস্থা রাখছেন পাপন।

তিনি বলেন, ‘ওপেনাররা কোথাও পিছিয়ে আছে এভাবে বলা আসলে ভুল হবে। হয়তো এখনো ক্লিক করছে না, তবে তাদের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ নেই। লিটন নিদাহাস ট্রফিতে কি ম্যাচটাই না জেতাল, অবিশ্বাস্য ব্যাটিং। আর সৌম্য নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ভালো করেছে, জিম্বাবুয়েতেও সুপার ব্যাটিং করেছে। এছাড়া নাঈম শেখেরও ভালো করার সামর্থ্য আছে।’

এদিকে, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ এবং তরুণতুর্কি আফিফের ব্যাট ছন্দে থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে। সদ্য শেষ হওয়া নিউজিল্যান্ড সিরিজের পাঁচ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে এসেছে ৬০ গড়ে ১২০ রান। অন্যদিকে, আর কিউইদের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সুযোগ খুব একটা পাননি আফিফ। তবে সিরিজের শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে। বিশ্বকাপের আগে যা বাংলাদেশ দলের জন্য সুখবর।

Sharing is caring!